নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ভাঙার শাস্তি হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ‘জুনিয়র ভুট্টো’ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকার। এমনকি জুলফিকার আলি ভুট্টো-ইয়াহিয়া খানরা যা করার সাহস দেখাননি তাই করেছেন পাকিস্তানের দালাল তথা রাজাকার বাহিনীর সদস্য প্রধান নির্বাচন নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দিন। রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ভোটে লড়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। যে পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ এবং নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান নিয়ে বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল বিদেশ মন্ত্রক। ওই সাংবাদিক সম্মেলনেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে দিল্লির প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে কোনও রাখঢাক না রেখে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত স্বাভাবিকভাবেই গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার খর্বতা এবং রাজনৈতিক স্থান সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।’
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তার পরেই নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়ে পড়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াত ইসলামী-সহ রাজাকারদের দল। অন্তবর্তী সরকারের প্রধান হন একাত্তরের গণহ্যাকারী পাক বাহিনীর দোসর মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। বেছে-বেছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং রাজাকার পরিবারের সন্তানদের উপদেষ্টা পরিষদে বসানো হয়। প্রধান বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল থকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব-স্বরা্ষ্ট্র সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয় পাকিস্তানপন্থী ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের। নিষিদ্ধ করা হয় একাত্তরের লড়াইয়ের প্রধান শ্লোগান ‘জয় বাংলা’ ও স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সুতিকাগার তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি।
গত কয়েকদিন ধরেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজাকার বাহিনী। সিদ্ধান্ত নিতে গত শনিবার (১০ মে) সন্ধেয় ‘যমুনা’য় বৈঠকে বসে রাজাকার পরিষদ। সেখানেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। পরে লোকদখানো সাংবাদিক সম্মেলনে রাজাকার পরিষদের পাঁচ সদস্য আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। রাজাকার পরিষদের মুখপাত্র তথা আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ‘বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ ‘জুনিয়র ভুট্টো’ মোল্লা ইউনূসের সরকারের সিদ্ধান্তের পরেই পাকিস্তানের আর এক দালাল তথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসিরউদ্দিন রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করেন। যদিও সরকারের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।