নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: পাকিস্তানের পোষ্যভৃত্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া বড় অপরাধ। এবার মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক সাংবাদিক-অধ্যাপক-মানবাধিকার কর্মী সহ ১৬ জনকে সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিয়ে জেলে পুরল ইউনূসের তদারকি সরকার। ওই ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনার প্রাক্তন মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। তদারকি সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ফুঁসে উঠেছেন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তিনি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের ফের রাজপথে নামার ডাক দিয়েছেন। কেন মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের বিশিষ্টজনদের সন্ত্রাসবাদী তকমা দিয়ে জেলে পাঠানো হল, তা জানতে চাওয়া হলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র তালেবুর রহমান বলেন, ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। তদারকি সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশেই ধৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ অগস্ট) রাজধানী ঢাকাতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) অডিটোরিয়ামে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছিল ‘মঞ্চ-৭১’ নামে একটি সংগঠন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রী কামাল হোসেনের। তিনি এবং অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার আসতে দেরি হওয়ায় সভা শুরু হতে বিলম্ব ঘটে। তবে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, প্রাক্তন সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনসহ অনেকে চলে আসেন। বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তখনই আল আমিন রাসেল ও শামীম হোসেন নামে দুই জামায়াত নেতা সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ে অডিটোরিয়ামে ঢুকে হামলা করেন। বেধড়ক মারধর করা হয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত শ্রোতা ও আয়োজকদের। ভয়ে-আতঙ্কে অনেকে অডিটোরিয়াম ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে হামলাকারীদের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক-সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
শুক্রবার (২৯ অগস্ট) সন্ত্রাসবাদী আইনে মামলা রুজু করে ১৬ জনকে ঢাকা আদালতে পেশ করে। মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী বাদে বাকি ১৫ জন জামিনের আর্জি জানালেও তা খারিজ করে বিচারক জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কেন জামিনের আর্জি জানালেন না তা জানতে চাওয়া হলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এ দেশের আদালতের উপরে আস্থা নেই। তদারকি সরকারের ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে গোটা বিচারব্যবস্থা। ফলে জামিন চাইলেও পাওয়া যাবে না। তাই জামিন চাওয়া হচ্ছে না।’