নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ফের মোদি সরকারকে জোর ধাক্কা দিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। তিস্তা মহাপ্রকল্প গড়তে ঋণের জন্য দিল্লি নয়, বেজিংয়ের কাছে হত্যে দিল। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চিনের কাছ থেকে ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠাচ্ছে তদারকি সরকার। তিস্তা মহাপ্রকল্পে দিল্লি আগ্রহ দেখানো সত্বেও কেন চিনের কাছে হাত পাতা হলো তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম কোনও রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ‘দিল্লি এখন আর আমাদের বন্ধু নয়। চিন বরং পরীক্ষিত বন্ধু। তাই চিনের সাহায্য নিয়েই তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিস্তা নদীকে ঘিরেই শেখ হাসিনা জমানায় মহাপ্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির পুরো নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ বা তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প। এই মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নে চিন ও ভারত—দুই দেশই আগ্রহ দেখিয়েছিল। ২০২৪ সালের মে মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সফরে এসে ভারতের তৎকালীন বিদেশ সচিব বিনয় কোয়েত্রা তিস্তা প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চেয়েছিলেন, প্রকল্পটিতে যেন ভারত অর্থ সাহায্য করে। ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের কয়েকদিন আগে চিন সফর শেষে ফিরে ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘চিন তো রেডি, কিন্তু আমি চাচ্ছি যে এটা ইন্ডিয়া করে দিক, এই প্রজেক্টটা করলে এই প্রজেক্টটার জন্য যা দরকার, ইন্ডিয়া দিতেই থাকবে। ঠিক আছে? যা সাফ সাফ কথা, রাখঢাক নাই।’
জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘তিস্তা মহাপ্রকল্পের প্রথম পর্যায় (ফার্স্ট ফেজ) বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। তার মধ্যে চিনের কাছ থেকে ঋণ চাওয়া হয়েছে ৫৫ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা)। বাকি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালে। ২০২৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চিনের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংস্থা প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে। চলতি বছরের মধ্যেই আর্থিক চুক্তি (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) সই করতে পারে দুই দেশ।