নিজস্ব প্রতিনিধি: কথায় রয়েছে মাছে-ভাতে বাঙালি। পাতে মাছ না পড়লে বাঙালির খাওয়া হজম হয় না। মাছ পাতে চাই-ই চাই। এখন বাঙালির বর্ষবরণ মানে সুন্দর কোনও রেস্তরাঁয় পঞ্চব্যঞ্জন সাজিয়ে জমিয়ে ভূরিভোজ। ধুতি-পাঞ্জাবি বা লালপাড় সাদা শাড়ি পরে পুরুষ এবং মহিলারা পরিবেশন করে যাবেন পোলাও-কালিয়া, মাছের পাতুরি, চাটনির মতো খাঁটি বাঙালি খাবার। তবে খাঁটি বলে এখন আর কিছু নেই বললেই চলে। এ পার বাংলার পোস্ত হোক, বা ও পার বাংলার ইলিশ ভর্তা, সবেতেই মিশেছে ‘ফিউশন টাচ’। সৌজন্যে অবশ্যই সমাজমাধ্যম এবং নামী রেস্তরাঁগুলিতে শেফদের তৈরি মিলমিশের মেনু।
সে যাই হোক, গোটা কলকাতাই এখন ফিউশন খাবারে মজেছে। কখনও মেনু অদলবদল করে আবার কখনও পরিবেশনের মুন্সিয়ানায় তিলোত্তমা নিত্যনতুন খাবার স্বাদ চাখছে। তবে এ সবের মধ্যেই কি আর খাঁটি বাঙালিয়ানা বেঁচে নেই, তা বলা যায় না। মা-ঠাকুমাদের মেনুতে এমন অনেক রান্না রয়েছে, যা শেফদের মেনুতে খুঁজে পাওয়া কঠিন। এখনকার গৃহিনীরা সেই সব রন্ধনশৈলীর ধারপাশ দিয়েও যান না। ঠিক যেমন ভর্তা। মূলত ও পার বাংলার রান্না হলেও, এ পার বাংলায় তার কদর কোনও অংশেই কম নয়। নারকেল কোরা দিয়ে ইলিশের ভর্তা, চিংড়ির ভর্তা হোক বা হালফিলের বেগুন, আলুর ভর্তা— এ স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতোই। মাছের নানা রকম ভর্তা এ পার বাংলার অনেক হেঁশেলেই কিন্তু স্বমহিমায় বিরাজ করছে। যেমন কাচকি মাছের ভর্তা। একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে হবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
কাচকি মাছের ভর্তা রান্না প্রণালী এমন কোনও বড় ব্যাপার নয়। হাতে সময় কম থাকলেও রেঁধে ফেলতে পারেন সহজেই রান্নাটি। দেখে নিন প্রণালী।
কাচকি মাছের ভর্তা
উপকরণ
২৫০ গ্রাম কাচকি মাছ
২টি গোটা পেঁয়াজ কুচনো
১ চামচ রসুন বাটা
৩-৪টি কাঁচালঙ্কা
১ চামচ পাতিলেবুর রস
ধনেপাতা কুচি
নুন স্বাদমতো
২ চা চামচ সর্ষের তেল
প্রণালী
কাচকি মাছের ভর্তা বানানোর জন্য প্রথমে কাচকি মাছগুলিকে ভাল ভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তার পর ভেজে নিয়ে কাঁটা ছাড়িয়ে মাছগুলিকে মেখে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ কুচি, রসুন বাটা দিয়ে হালকা নেড়ে নামিয়ে নিন। এ বার মাছের সঙ্গে ভাজা পেঁয়াজ, লঙ্কা আর তেল দিয়ে ভাল করে মেখে নিন। নুন দিতে হবে স্বাদমতো। মাছগুলিকে ভেঙে চটকে মাখতে পারেন, অথবা গোটা রেখেও মেখে নিতে পারেন। উপর থেকে লেবুর রস ও ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।