নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস যাতে সরে না দাঁড়ান তা নিশ্চিত করতে আসরে নামল পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। আজ শুক্রবার (২৩ মে) দিনভর পাক গুপ্তচররা জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াত ইসলামী, হেফাজত ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি’র মতো মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দফায়-দফায় বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি ইকবাল করিম ভুঁইয়া-সহ সেনাবাহিনীর প্রাক্তন পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক-সহ সমাজমাধ্যমে প্রচার চালাবেন দলগুলোর নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামানের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করতে তাঁকে আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে প্রচার চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাণলাদেশের ক্ষমতা ‘ব-কলমে’ নিয়ন্ত্রণ করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান ও জাহাজ যোগাযোগ চালু, ভিসা প্রথা কার্যত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে লড়ার জন্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে খুন করা পাক সেনার কাছে বাংলাদেশি সেনাদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি থেকে ক্যাবিনেট সচিব স্বরাষ্ট্র সচিব সহ প্রশাসনের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে আইএসআইয়ের পেইড এজেন্টদের। ১৯৭১ সালের আগে যেভাবে পশ্চিম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল পূর্ব পাকিস্তান, সেই অবস্থা ফের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। আইএসআইয়ের নির্দেশে ইউনূস সরকারের তরফে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তেমনই মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ভাস্কর্য। এমনকি বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তক থেকেও মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ভারত ও হিন্দু বিরোধী প্রচারও তুঙ্গে উঠেছে। ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে নতুন করে লস্কর-ই-তৈয়বা, জইশ-ই মহম্মদ, হিজাবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গি সংগঠনের নয়া ডেরা তৈরি হয়েছে। একাধিক জায়গায় জঙ্গি ডেরায় শুরু হয়েছে প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুরের সময়ে তাড়া খেয়ে ঢাকায় পালিয়ে আসা ৪০ কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি ডেরা বেঁধেছে ঢাকার পাক দূতাবাসে। ইউনূস সরকার চলে গেলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে বুঝতে পেরেই ফের আসরে নেমেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা।।
এদিন পাক গুপ্তচর সংস্থার এজেন্ট তথা ঢাকায় পাক দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আসিফ প্রথমে পল্টনে খেলাফত মজলিসের দফতরে বৈঠকে বসেন সংগঠনের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের সঙ্গে।। ওই বৈঠকের পরে দেখা করেন জামায়াত ইসলামীর সশস্ত্র শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রাক্তন সভাপতি তথা আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে। বিজয়নগরে দলটির কার্যালয়ে দুপুরে বৈঠক হয়। এর পরে দেখা করেন ইউনূসের মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার ও তার স্বামী তথা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ফরহাদ মাজহারের সঙ্গে।
আইএসআইয়ের আর এক এজেন্ট তথা পাক দূতাবাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলর কামরান ধাঙ্গালেরও দিনটি কেটেছে চরম ব্যস্ততায়। তিনি প্রথমে বৈঠক করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির চার শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম-নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি-আখতার হোসেন ও হাসনাত আবদুল্লাহের সঙ্গে। রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে ওই বৈঠক হয় এর পরে জামায়াত ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান ও মহাসচিব মিঁয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন সেনাবাহিনীর চার প্রাক্তন শীর্ষ আধিকারিক। সেখান থেকে যান যমুনায়। তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পাঁচ সহকারীর সঙ্গে ঘন্টা দেড়েক ধরে বৈঠক হয়। ওই বৈঠকের পরেই শিয়ালরা যেমন সমস্বরে হুক্কা-হুয়া রব তোলে তেমনই ‘ইউনূসের ইস্তফা দেওয়া চলবে না’ বলে রব তুলেছেন ফারহাদ মাজহার সহ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শিবিরের সদস্যরা।
সূত্রের খবর, ইউনূস যাতে হুট করে ইস্তফা না দেন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জামায়াত-খালাফত মজলিস-সহ কট্টর মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের। আইএসআইয়ের দুই এজেন্ট আশ্বাস দিয়েছেন, ‘ইউনূসকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য যা প্রয়োজন তা করা হবে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের উপরে প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলা চালানো হবে এবং সেনাবাহিনীতে থাকা মৌলবাদী মনোভাবাপন্ন আধিকারিকদের দিয়ে ওয়াকার উজ জামানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা হবে।’ পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায় তার জন্য শনিবারই ইসলামাবাদ থেকে আইএসআইয়ের তিন পদস্থ আধিকারিকের ঢাকায় পৌঁছনোর কথা রয়েছে।