নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কার্যত সন্মুখসমরে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকার এবং সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৩ মে) সকালেই দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে জড়িত ইউনূসের এক ডজন সহকারীর দেশত্যাগের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সেনার সামরিক গোয়েন্দা শাখা (ডিজিএফআই)। আর তাতেই আঁতে ঘা লেগেছে ইউনূসের ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী তথা পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পেইড এজেন্ট ফৈয়াজ আহমেদ তৈয়্যবের। দুপুরেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানকে খুল্লামখুল্লা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন ‘তদারকি সরকারের কাজে নাক গলাতে আসবেন না। শেখ হাসিনার মতো পরিণতি করে দেব।’ ব্রিটিশ নাগরিক ফৈয়াজের ওই হুমকি নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও সেনাবাহিনীর তরফে দেশ বিক্রির ষড়যন্ত্রে সামিল ফৈয়াজের হুমকি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সেনার এক মুখপাত্র রসিকতা করে বলেছেন, ‘কথায় বলে না, হাতি চলে বাজার কুত্তা ভোকে হাজার। ফৈয়াজেরও তেমন দশা’।
আমেরিকার হাতে সেন্ট মার্টিন বিক্রি করা এবং আরাকান আর্মিকে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের জন্য মানবিক করিডর নিয়ে গত ১৫ দিন ধরেই তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা ইউনূসের বিদেশি গ্যাংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। বুধবারই সেনা আধিকারিকদের এক সভায় মানবিক করিডর এবং সেন্ট মার্টিন বিক্রি নিয়ে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। সেই সঙ্গে ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে নির্বাচন করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেনাপ্রধানের সঙ্গে তদারকি সরকারের বিরোধের মধ্যেই বৃহস্পতিবার পরিকল্পিতভাবে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগ করার চিন্তা করছেন বলে গুজব রটায় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও কর্ণধারদের ওই গুজব বড় করে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইউনূস সরকারকে বাঁচাতে শুক্রবার সকালে আসরে নামে পাকিস্তানপন্থী জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াত ইসলামী, হেফাজত ইসলামের মতো কট্টর মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলো। হাজার-হাজার কোটি টাকা লুটের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় প্রমাদ গোনে ফৈয়াজ আহমেদ তৈয়্যবের মতো আইএসআই এজেন্ট ও দুর্নীতির শিরোমণিরা। দেশ ছেড়ে পালানোর সম্ভাবনা ব্যর্থ হতেই সেনাপ্রধানকে নিশানা করে ফেসবুকে এক পোস্ট করেন ইউনূসের টেলি ও ডাক সংক্রান্ত বিশেষ সহকারী ফৈয়াজ আহমেদ তৈয়্যব। সেনাপ্রধানকে হুমকি দিয়ে লেখেন, ‘সেনাবাহিনী রাজনীতিতে নাক গলাতে পারবে না। আজকের দুনিয়ায় কোনও সভ্য দেশের সেনাবাহিনী রাজনীতি করে না। তাই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের বক্তব্যে সেনাপ্রধান জুরিশডিকশনাল কারেক্টনেস রক্ষা করতে পারেননি। ইনক্লুসিভনেসের নাম করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনও চাওয়া যাবে না।’ পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘরোয়া আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে যেভাবে উচ্ছেদ করেছি। প্রয়োজনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের তেমন পরিণতি করব।’
নিমিষেই ফৈয়াজের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও বিকেলের দিকে ল্যাজ গুটিয়ে পালিয়েছেন সেনাপ্রধানকে লক্ষ্য করে হুঙ্কার ছাড়া ইউনূসের ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা। ফেসবুক পোস্ট মুছে দিয়েছেন। কেন ফেসবুক পোস্ট মুছে দিলেন তা নিয়ে বার বার প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করলেও মুখ খুলতে চাননি ফৈয়াজ।