নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথমবার নীরবতা ভেঙে পাকিস্তানের পোষ্যভৃত্য তথা তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ‘শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেও দেশে স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটেনি। পদে পদে বাধা পাচ্ছে গণতন্ত্র।’ বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে দলীয নেতা-কর্মীদের আত্মত্যাগেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরে ৮ অগস্ট অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসেছিলেন পাকিস্তানি চর মোল্লা ইউনূস। ৯ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দেশে অবাধ নির্বাচনের আয়োজন না করে জনগণের টাকায় বিভিন্ন দেশে ফূর্-তি মেরে বেড়াচ্ছেন। বাংলাদেশে ফের জঙ্গিবাদকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। নির্বাচন নিয়ে লাগাতার টালবাহানা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনূসের মতিগতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ প্রকাশ করে চলেছেন দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা খালেদা পুত্র তারেক রহমান গতকাল বুধবারই দলের ‘তারুণ্যের অধিকার সমাবেশ’-এ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
এতদিন দেশের রাজনীতি নিয়ে নীরবই ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এদিন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট তথা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে ভাষণ দিতে গিয়ে ইউনূস সরকারকে বিঁধেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘এ দেশে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা স্বনির্ভরতা, উন্নয়ন ও নিজস্ব জাতীয়তাবাদ সৃষ্টির অনন্য রূপকার শহীদ জিয়া। যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা আর সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, সেই গণতন্ত্রের নিরবচ্ছিন্ন যাত্রা আজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রতি পদে পদে। শিগগিরই আমরা বাংলাদেশকে গণতন্ত্রে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত দেখতে পাব। এই হোক সেই জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার।’ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকে পাখির চোখ করার আর্জি জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলার জন্য আমি বিএনপির সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখবেন, সবার জন্য গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের যে রাজনীতি শহীদ জিয়া রেখে গেছেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।’