নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), হরকাতুল জিহাদি বাংলাদেশ (হুজি-বি)-সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা জমানায় দায়ের করা ২,৭৭২টি মামলা প্রত্যাহার করল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। রাজনৈতিক হয়রানির কারণে ওই মামলা দায়ের করা হয়েছিল দাবি করে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু হিযবুত তাহরীর-সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধেই নয়, বিএনপি-জামায়াত ইসলামীর মতো কট্টর সাম্প্রদায়িক দলগুলির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা প্রত্যাহারের পথে হেঁটেছে আইন ও বিচার মন্ত্রক। বিভিন্ন থানা এবং আদালতে ওই মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। বুধবার আইন মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণির নির্দেশে জঙ্গি সংগঠন ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বিরুদ্ধে হাসিনা জমানায় দায়ের হওয়া ৪ হাজার ৬১৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসিমুল গণি।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরিবর্তে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে আসীন হন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনাদের সাহায্যে গঠিত রাজাকার বাহিনীর অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষমতায় বসেই তিনি শেক হাসিনা জমানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল জিহাদি-সহ ২৩টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। এমনকি তদারকি সরকারের উপদেষ্টা পদে হিযবুত তাহরীর তিন নেতা মাহফুজ আলম, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে নিয়োগ করেন। বিভিন্ন জেলে বন্দি জঙ্গি নেতা-কর্মীদেরও মুক্তি দেন। সেই সঙ্গে পুনর্বাসন হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীতেও হিযবুত তাহরীর জঙ্গিদের নিয়োগ করা হয়।
বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আইন ও বিচার উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব তথা হিযবুত তাহরীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাসিমুল গণি, অতিরিক্ত সচিব (আইন ও শৃঙ্খলা) নাসিম আহমেদ, যুগ্মসচিব (আইন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি (যুগ্ম-সচিব পর্যায়ের নিচে নয়)। ওই উচ্চ পর্যায়ের কমিটিই হিযবুত তাহরীর-সহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে থাকা ২,৭৭২টি মামলা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। জামায়াত ইসলামী সহ সাম্প্রদায়িক দলগুলির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা ১,৩৭৬টি মামলা প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়। হিযবুত তাহরীর-সহ জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হল, তা নিয়ে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।