নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: গ্রাম্য প্রবাদ রয়েছে, ‘ছাগল দিয়ে কি আর ভাই হাল চাষ হয়?’ ওই গ্রাম্য প্রবাদটি অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ক্ষেত্রে একশো শতাংশ প্রযোজ্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নির্লজ্জ আর অকর্মণ্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অতীতে আসেনি। গত ১০ মাসে জাহাঙ্গীরের জমানায় বাংলাদেশ যেমন জঙ্গি আর ধর্ষকদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে, তেমনই হিন্দুদের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশবাসীর কাছে সার্কাসের ক্লাউন তথা ভাঁড় হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন। সোমবার (৩০ জুন) ফের একবার জাহাঙ্গীরের ভাঁড়ামির সাক্ষী থাকল দেশবাসী।
গতকাল রবিবার (২৯ জুন) সকালে মরক্কোয় যাওয়ার পথে ঢাকা বিমানবন্দরে তদারকি সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর অন্যতম শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছিল একে ৪৭-র ম্যাগাজিন। ওই ঘটনা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় গোটা বাংলাদেশে। যদিও ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোমর কষেই ঝাঁপিয়েছিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে হুমকি দিয়ে এ সংক্রান্ত খবর সরিয়ে ফেলানো হয়। যদিও তাতে শেষ রক্ষা হয়নি। সমাজমাধ্যমে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায় এ সংক্রান্ত খবর। ফলে খানিকটা চাপে পড়ে মরক্কো থেকেই হিযবুত তাহরীর জঙ্গি আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে এক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ভুল করে তার ব্যাগে একে-৪৭ রাইফেলের ম্যাগাজিন রয়ে গিয়েছিল।’
এতে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। আদৌ কোনও ব্যক্তি একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের লাইসেন্স পেতে পারেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এদিন রাজাকার ইউনূসের নির্দেশে জঙ্গি আসিফকে বাঁচাতে আসরে নামেন জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য তথা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আসিফ মাহমুদকে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাগে যে একে-৪৭ এর ম্যাগাজিন পাওয়া গিয়েছে তা ভুলে রয়ে গিয়েছিল।’
এর পরেই একে-৪৭ রাইফেলের সঙ্গে চশমার উদাহরণ টেনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা জাস্ট একটা ভুল। অনেক সময় এমন হয় যে, আপনি একটা চশমা নিয়ে যাবেন কিন্তু চশমা না নিয়ে মোবাইল নিয়ে রওনা হয়ে গেছেন। এটা জাস্ট একটা ভুল। উনি যদি আগে জানতে পারতেন তাহলে কোনও অবস্থাতেই এটা নিতেন না।’ বৈধ লাইসেন্স পেতে বয়স ত্রিশ বছর হওয়া লাগে। কিন্তু উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বয়স ত্রিশ হয়নি। তাহলে উনি এটা কীভাবে পেলেন সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন জাহাঙ্গীর।