নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার: সীমানা টপকে কোনও ভারতীয় অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে পড়লে গুলি করে মারা হবে বলে হুঙ্কার ছুড়েছেন বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। শনিবার (১ মার্চ) কক্সবাজারে বিজিবির ৬৪ ব্যাটেলিয়নের এক অনুষ্ঠানে হুঙ্কার ছেড়ে তিনি বলেছেন ‘ভারতীয়দের প্রতি এতদিন সৌজন্য ও মানবিকতা দেখিয়েছি। আর কোনও মানবিকতা দেখাব না। এতদিন আমরা ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের সুন্দরভাবে নিয়ম মেনে গ্রেফতার করেছি। এখন আর তা করা হবে না। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দেখলে যেভাবে বিএসএফরা গুলি চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে, এখন থেকে ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের আমরা গুলি করে হত্যা করব। ভারতকে বুঝিয়ে দেব ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে।’
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন বাংলাদেশের কট্টর মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতারা। এমনকি বিজিবির বেশ কয়েকজন পদস্থ আধিকারিক ও বাংলাদেশ সেনার প্রাক্তন আধিকারিকরাও ভারত দখলের হুঙ্কার দিয়ে চলেছেন। শুধু মুখে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি ভারত বিদ্বেষী বিজিবি আধিকারিকরা। সীমান্তে বিএসএফকে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধাও দিয়েছে। বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উপরে আক্রমণের জন্য গ্রামবাসীদের লেলিয়েও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি চোরাকারবারী এবং জঙ্গিরা যাতে অনায়াসে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকতে পারে তার পথ সুগম করতে দুই দেশের মধ্যে থাকা স্থল সীমান্ত চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন কট্টর মৌলবাদী সংগঠন জামায়াত ইসলামীর সদস্য তথা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার আবহেই গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের ডিজি পর্যায়ের সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশি চোরাকারবারীদের উপরে গুলি না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। কিন্তু সেই আবদার পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন বিএসএফের ডিজি।
দিল্লির বৈঠকে কল্কে না পাওয়ায় এদিন ভারতীয়দের সরাসরি গুলি করে মারার হুমকি দিয়েছেন বিজিবির প্রধান। কক্সবাজারের অনুষ্ঠানে সরাসরি চোরাকারবারী ও জঙ্গিদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটুক আর যাই ঘটুক, হত্যা কোনও চূড়ান্ত সমাধান হতে পারে না। আমরা পরিষ্কারভাবে বিএসএফকে জানিয়ে দিয়েছি, এটা কোনও ভাবেই কাম্য নয় এবং এটা মেনে নেওয়া যায় না। এভাবেই যদি চলতে থাকে, তাহলে ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের যে আমরা সুন্দরভাবে নিয়মের মধ্যে গ্রেফতার করে হস্তান্তর করি, তা আর করব না। আমরাও এবার গুলি চালাব। আর যদি একটি হত্যার ঘটনাও ঘটে, তাহলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাব।’