নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার বদলা নিতে আগরতলা অভিমুখে রওনা দিল বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল নয়টার সময়ে রাজধানী ঢাকার নয়া পল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে আগরতলার উদ্দেশে রওনা করেছেন তারা। এ সময়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গিয়েছে। যদিও ‘আগরতলা চলো’ কর্মসূচি শান্তিপুর্ণভাবেই পালনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি’র যুব শাখা যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না।
শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই তিক্ততা চরমে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের বিপন্ন হিন্দুদের রক্ষাকর্তা চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। গত ২ ডিসেম্বর আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে বিক্ষোভের সময়ে হামলা চালায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সদস্যরা। আর তার পরেই ভারত বিরোধিতাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুঠতে আসরে নেমেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি। গত কয়েকদিন ধরে ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হয়েছে ভারতীয় শাড়ি-বিছানার চাদর-সহ বিভিন্ন পণ্য। ভারতীয়দের চরম শিক্ষা দিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ‘আগরতলা অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়।
এদিন সকালে ঢাকার নয়াপল্টন থেকে আগরতলা অভিমুখে রওনা করেন কয়েক হাজার বিএনপি ক্যাডার। তাদের মধ্যে অনেকের হাতে ছিল আগ্নেয়াস্ত্র। কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, ‘নয়াপল্টন থেকে শুরু হওয়া লংমার্চ সাইনবোর্ড-চিটাগং রোড-কাঁচপুর মোড়-তারাবো-বরফা-ভুলতা, গাউছিয়া-চনপাড়া, মাধবদী-পাঁচদোনা-সাহেপ্রতাব, ভেলানগর-ইটখোলা-মারজাল-বারুইচা হয়ে ভৈরব পৌঁছবে। ভৈরবে বড় সমাবেশ করার পরে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা সংলগ্ন আখাউড়া পৌঁছবে লং মার্চ। ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।’ এদিন লং মার্চের সূচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তথা কট্টর ভারত বিরোধী রুহুল কবীর রিজভি হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘দিল্লির সাম্প্রদায়িক শাসকেরা শুনুন! আপনারা লেডি ফারাওকে (পড়ুন শেখ হাসিনা) ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় রাখতে সমর্থন দিয়েছেন। আপনাদের দাসত্ব আর মানবে না বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। ১৮ কোটি বামলাদেশি আজ জেগে উঠেছে। এবার আপনারা বুঝতে পারবেন কত ধানে কত চাল। আগরতলা দখল করতে বাংলাদেশের সেনার দরকার নেই। লং মার্চে সামিল হওয়া বিএনপি কর্মীরাই যথেষ্ট।’