নিজস্ব প্রতিনিধি, যশোর: ভারতীয় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আশঙ্কায় কাঁটা মোল্লা ইউনূস সরকার। তাই সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে যুদ্ধের যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনীর সদস্যদের যাবতীয় ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যশোর এবং চট্টগ্রামের সেনা ঘাঁটিতে বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর আচমকা আক্রমণ রুখতে সাভার ও বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী বিভিন্ন ট্যাঙ্কও পাঠানো হয়েছে দুই সেনানিবাসে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, ভৌগলিক কারণেই যশোর ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যশোরে বায়ু সেনার ঘাঁটিতে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হিন্দু নির্যাতন ও ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির পরেই ঢাকা-দিল্লির মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যদিও উত্তেজনা প্রশমনে আগামী সোমবার (৯ ডিসেম্বর) ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশরি ঢাকায় আসছেন। তবুও দিল্লিকে পুরোপুরি বিশ্বাস না করতে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। বরং ভারত যদি আঘাত করে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যাতে প্রত্যাঘাত করা যায়, সে বিষয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশের পরেই শুক্রবার সেনা সদর দফতরে বাহিনীর শীর্ষ কর্তা ও দেশের ১২টি সেনানিবাসের দায়িত্বে থাকা কম্যান্ডার বা জিওসি-কে নিয়ে বৈঠক করেন সেনাপ্রধান। ওই বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গ ও অসম লাগোয়া সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। যশোর ও চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বাড়তি সেনা সদস্য ও অস্ত্র মজুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাভার-সহ বেশ কয়েকটি সেনানিবাসে থাকা চিন ও পাকিস্তানের ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র যশোর ও চট্টগ্রামে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের খবর, গতকাল শুক্রবারই (৬ ডিসেম্বর) যশোর সেনানিবাসে চিনের তৈরি ২২টি এইচজে-৮ এবং পাকিস্তানের তৈরি বাক্তার শিখান অ্যান্টি ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে চিনের তৈরি বিমান বিধ্বংসী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এম-৮০-ও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের তৈরি বহুমুখী লকেট লঞ্চার ট্যাঙ্ক টিআরজি-৩০০ টাইগার মজুত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সেনা ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে তুরস্কের তৈরি মাল্টিপল লকেট লঞ্চার টিআরজি-২৩০। চিনের তৈরি ১২২এমএম হাউৎজার সমৃদ্ধ শক্তিশালী পিএল-৯০ কামান। যদিও বাংলাদেশ সেনার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে কিছু বলা হয়নি।