নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকা: নয়াদিল্লিতে আগামী মাসেই বৈঠকে বসতে চলেছে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পদাধিকারীরা। আর ওই বৈঠকের আগেই বিএসএফকে খুল্লামখুল্লা চ্যালেঞ্জ জানলেন বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) প্রধান মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্দরে যিনি পাকিস্তান ও জাময়াত ইসলামী পন্থী আধিকারিক হিসাবেই পরিচিত। বুধবার (২৯ জনুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, ‘ভারতকে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। দিল্লির সম্মেলনে বিএসএফ আধিকারিকদের চোখে চোখ রেখে কথা বলব না। এটা যে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়, তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সেনা বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিলেন তার নেপথ্যে যে সব সেনা আধিকারিক ছিলেন, তার ন্যতম হলেন মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। যিনি একসময়ে বাংলাদেশ সেনায় জঙ্গি শাখা গড়ে তোলার অন্যতম চক্রী মেজর জিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সেনার ভিতরে চর্চা রয়েছে, আশরাফুজ্জামানের মদতেই দেশ ছেড়ে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন আল কায়দার জঙ্গি মেজর জিয়া। গত ৫ অগস্ট বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের সঙ্গে সরাসরি সঙ্ঘাতে যেতে বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে আশরাফের বিরুদ্ধে। তাঁর নির্দেশেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সহ বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফকে কঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাঁধা দিয়ে চলেছে বিজিবি জওয়ানরা। বেশ কয়েকটি জায়গায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষেরও উপক্রম হয়েছিল।
সময় যত গড়াচ্ছে ততই বিএসএফ ও ভারত বিরোধিতার ক্ষেত্রে সুর চড়চ্ছেন বিজিবির কর্তারা। কয়েকদিন আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিজিবি সেক্টর কম্যান্ডর লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া রীতিমতো জনসভা ডেকে রাজনৈতিক নেতার মতো ভাষণ দিয়েছিলেন। হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ বিএসএফ ও ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিএসএফের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের রুখে দাঁড়ানোর কোনও প্রয়োজন নেই। আমি একলাই যথেষ্ট।’ এদিন কিবরিয়ার কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে বিজিবির শীর্ষ কর্তা তথা জামায়াত ইসলামী ঘনিষ্ঠ সেনা আধিকারিক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর কণ্ঠে। বিএসএফ ও দিল্লির বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যেসব বিষয়ে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে, সেসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিদেশ মন্ত্রককে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তিগুলো নিয়ে কাজ করতে। যেগুলোতে আমরা মনে করছি যে, আমরা বঞ্চিত হয়েছি সে বিষয়গুলোতে আমরা কোনও ছাড় দেব না।’