নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও ঢাকা: উপকূল রক্ষীদের হাতে আটক ৭৯ সন্দেহভভাজন জঙ্গিকে মুক্ত করতে আসরে নামল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। সূত্রের খবর, ধৃত ৭৯ সন্দেহভাজন জঙ্গির সঙ্গে কথা বলতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চেয়েছে দিল্লির বাংলাদেশ দূতাবাস। ‘কনস্যুলার অ্যাকসেস’ হচ্ছে, বিদেশে কোনও নাগরিক আটক বা গ্রেফতার হলে তাঁকে সহায়তা দেওয়ার জন্য দূতাবাস থেকে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ দেখানো। যদিও বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাত পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক বাংলাদেশ দূতাবাসের আধিকারিকদের কনস্যুলার অ্যাকসেস দেয়নি।
গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) মাছ ধরার অছিলায় বঙ্গোপসাগর হয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা চালানোন ৭৯ সন্দেহভাজন জঙ্গি। কিন্তু খুলনার সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টের কাছে জলসীমায় নজরদারি চালানো ভারতীয় উপকূল রক্ষীরা বাংলাদেশের ৭৯ জঙ্গির ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তাড়া করে ৭৯ সন্দেহভাজন জঙ্গি-সহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার আটক করে। জেরায় সদুত্তর দিতে না পারায় ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেয় উপকূল রক্ষীরা। বর্তমানে ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দরেই রাখা হয়েছে ওই ৭৯ সন্দেহভাজন জঙ্গিকে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ধৃতদের দফায়-দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতে নাশকতামূলক কাজকর্মের উদ্দেশেই ধৃতরা জলসীমা লঙ্ঘন করেছিল কিনা, তা জানার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, খুলনার হিরণ পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৯ সন্দেহভাজন জঙ্গিকে ছাড়াতে সক্রিয় হয়েছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। বুধবারই ধৃতদের ছাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রককে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ওই চিঠিতে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, ধৃত ৭৯ মৎস্যজীবি জলসীমা লঙ্ঘন করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেননি। বরং ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনীই বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে ঢুকে গায়ের জোরে ৭৯ ‘নিরীহ মৎস্যজীবিকে’ তুলে নিয়ে গিয়েছে। ওই চিঠির পরেই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আধিকারিকদের কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে ওই নির্দেশ পেয়েই বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ দূতাবাসের তরফে সাউথ ব্লকে বিদেশ মন্ত্রকের কার্যালয়ে জরুরি এসওএস পাঠিয়ে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়।