নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: অবৈধভাবে পাওয়া ক্ষমতা যে সহজে ছাড়বেন না, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন তদারকি সরকারের প্রধান মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার বিএনপি শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘তিন-চার বছরের জন্য ভোটের কথা ভুলে যান। যে গোপন এজেন্ডা নিয়ে এসেছি, তা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত ভোট ঘোষণা করব না।’ একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দেশে ঢুকতে দেবেন না বলেও হুঙ্কার ছুড়েছেন। বিএনপি নেতারা পাল্টা ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট ঘোষণার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছছেন। ওই সময়ের মধ্যে ভোট ঘোষণা না হলে দেশের পরিস্থিতি করুণ হবে বলে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ক্ষমতা দখলের পরেই দেশে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছেন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাক গণহত্যাকারীদের দোসর মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। কখনও বলছেন, ডিসেম্বরে ভোট হবে। কখনও বলছেন জুনে ভোট হবে। আবার কখনও বলছেন সংস্কার না সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত ভোট নয়। কবে ভোট হবে, আদৌ ভোট হবে কিনা তা জানতে এদিন যমুনায় তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা ইউনূসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিএনপির আট শীর্ষ নেতা। ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিএনপির মহাসচচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। প্রায় পৌনে দু’ঘন্টা ধরে বৈঠক হয়।
সূত্রের খবর, বার বার দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটিতে বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি নেতারা ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট ঘোষণার দাবি জানালে পাল্টা ইউনূস বলেন, ‘ভোট কবে হবে, তা আমি ঠিক করব। যতদিন ইচ্ছে ক্ষমতায় থাকব।’ ওই কথা শুনে বিএনপি নেতারা রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকি দেওয়ায় রাগতস্বরে ইউনূস বলেন, ‘ভুলে যাবেন না আমার দয়াতে আপনাদের দলের দুর্নীতিবাজ নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান বিভিন্ন মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। আমাদের পোষ্যভৃত্য প্রধান বিচারপতিকে বলে রিভিউ আবেদন করে ফের সব মামলা পুনরুজ্জীবিত করব। আজীবন জেলের ঘানি টানতে হবে। আপনারাও সব জেলের ভিতরে থাকবেন। মিথ্যা মামলায় যেমন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জেলে পুরেছি, আপনাদের সঙ্গে তা করতে দু’মিনিট ভাবব না।’ প্রধান উপদেষ্টার ওই হুমকি শুনে বিএনপি নেতারা সমস্বরে বলেন, ‘ভদ্রলোকের মতো ডিসেম্বরে ভোট ঘোষণা করুন। ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলে কী করুণ পরিণতি দেখতে হবে তা ভাবতে পারবেন না।‘ দুপক্ষের মধ্যে বাক্য বিনিময় চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছলে বিএনপি নেতারা বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসা বিএনপি নেতাদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট ছিল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করেই বলেছি, আমাদের কাটঅফ টাইম ইজ ডিসেম্বর। ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট হতে হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন যদি না হয়, তাহলে দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক পরিস্থিতি, সেটা আরও খারাপের দিকে যাবে। সেটা তখন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।’