নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় হিন্দুদের বধ্যভূমি হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। এবার পটুয়াখালীতে পুলিশ ব্যারাকের ভিতরেই এক হিন্দু মহিলা কনস্টেবলকে ধর্ষণ করে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। হতভাগিনী পুলিশ কনস্টেবলের নাম তৃষ্ণা বিশ্বাস। পুলিশ ব্যারাকের মধ্যে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও হিন্দু মহিলা কনস্টেবলকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসরে নেমেছেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম খুন হওয়া মহিলা কনস্টেবলকে মানসিক ভারসাম্যহীন সাজানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সুপারকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে ধর্ষণের বিষয়টি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাদারিপুর সদর উপজেলার পূর্ব কমলাপুরের বাসিন্দা তৃষ্ণার জন্ম এক গরিব কৃষক পরিবারে। ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। ছোটবেলায় টিউশনি করে নিজেই পড়াশোনার টাকা জোগাড় করেছিলেন। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর মার ১৯ বছর বয়সেই পুলিশ কনস্টেবল হিসাবে চাকরি পান। পটুয়াখালী পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন। রবিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে ডিউটিতে না পৌঁছনোয় তৃষ্ণার খোঁজ নিতে যান সহকর্মী ইতি রানি মালো। নিজের কক্ষেই তৃষ্ণাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মুখ সহ সারা শরীরে অসংখ্য কামড় ও নখের দাগ ছিল। সহকর্মীরা নিশ্চিত হন, ধর্ষণের পরেই খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃষ্ণাকে।
খোদ পুলিশ ব্যারাকের মধ্যেই এক মহিলা কনস্টেবলকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা পুলিশ ও প্রশাসনের উপরমহলে পৌঁছতেই শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে ছুটে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম, সদর থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ। তৃষ্ণার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালের সুপার ও ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম। সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে খুন করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা যাবে না বলে নির্দেশ দেন তিনি। একজন হিন্দু মহিলা কনস্টেবলকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে অতি তৎপর হয়েছে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তা। আত্মহত্যার তত্ত্বকে সামনে তুলে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের আগেই সংবাদমাধ্যমকে আগ বাড়িয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন তৃষ্ণা। মানসিক রোগের চিকিৎসাও চালাচ্ছিলেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।’