নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনে রাশ টানা যাচ্ছে না কিছুতেই। গত বুধবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী চৌধুরী (টিএসি) উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কান্তি লাল আচার্যকে সপরিবারে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ইস্তফা দিতে বাধ্য করল একদল তৌহিদী জনতা। ওই ন্যক্কারজনক কাণ্ড ঘটিয়েছে হিন্দু বিদ্বেষী ও পাকিস্তানপন্থী হিসাবে পরিচিত খালেদা জিয়ার দলের নেতা-কর্মীরা। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন। যদিও ঘটনার ৪৮ ঘন্টা বাদেও জেলা প্রশাসনের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙেনি।
শিক্ষকদের একাংশ জানিয়েছেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারূঈ হাজী তোবারেক আলী চৌধুরী বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কান্তিলাল আচার্য। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হন। বিদ্যালয়ের পরিচালনায় গঠিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতির পদ নিয়ে কান্তি লালের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গত বুধবার আচমকাই বেশ কয়েকশো বিএনপি কর্মী হাজির হন বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে কান্তিলালকে ইস্তফার নির্দেশ দেন। ইস্তফা না দিলে সপরিবারে মেরে ফেলা হবে বলে প্রকাশ্যেই হুমকি দেন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি ও প্রাক্তন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার। প্রথমে ইস্তফা দিতে রাজি হননি কান্তিবাবু। কোন অপরাধে তাঁকে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা জানতে চান।
তাতে বেজায় চটে যান বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তারা স্পষ্ট বলেন, ‘হিন্দুদের বাংলাদেশের মাটিতে মাথা নিচু করে থাকতে হবে। কোনও শীর্ষ পদে থাকতে পারবে না।’ এর পরেই লাঞ্ছিত করা হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করেন কান্তিবাবু। বাইরে তখন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপির আরও দেড় শতাধিক সন্ত্রাসী। এমনকি বেশ কয়েকটি ককটেল বোমাও ফাটানো হয়। ইস্তফা দেওয়ার পরে কান্তিলালকে হুমকি দেওয়া হয় ‘ভবিষ্যতে তিনি যেন স্কুলের চৌহদ্দির মধ্যে পা না রাখেন।’ শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সেদিনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে বারবার আঁতকে উঠেছিলেন কান্তিলাল। নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। জীবনে কখনও ভাবিনি এমন দুঃসহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে।’