নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অমর একুশে। প্রতি বছরই একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন রাষ্ট্রপতি। তাঁর শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পরেই বাকিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শহিদ মিনার। এবার ভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে না যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে হুঁশিয়ারি দিল ছাত্ররা। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ নামে একটি অতি বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘যদি অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে না চান, তাহলে ভাষা দিবসে শহিদ মিনারের পথ মাড়াবেন। হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে যদি শহিদ মিনারে পা রাখেন তাহলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
এদিন বিকালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক গণঅবস্থানের ডাক দিয়েছিল বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। ওই গণঅবস্থানে ভাষণ দিতে গিয়ে সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জুলাই ও অগস্টে আমরা দুই হাজারেরও বেশি ভাই ও বোনকে হারিয়েছি। কিন্তু পুরো ঘটনার সময় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ করে ছিলেন। এছাড়া এটিও কারও অজানা নয় যে, তিনি শেখ হাসিনার অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ এমপিদের ভোটে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। শেখ হাসিনা পালিয়েছেন। সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমপিরাও পালিয়ে গেছেন। অথচ রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি এখনও বহাল আছেন। ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে তার পদত্যাগের দাবি জানানো হলেও তিনি সরে যাননি। কিন্তু তাঁকে জনগণও মেনে নেয়নি। তিনি স্রেফ কায়েমী স্বার্থবাদীদের মদদে টিকে আছেন। রাষ্ট্রপতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলছি, জুলাই বিপ্লবের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পা রাখবেন না। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে যাবেন না। নির্দেশ অমান্য করে শহিদ মিনারে গেলে পড়ুয়ারা আপনার এমন হাল করবে যে তা কল্পনাও করতে পারবেন না।’
দেশের এক নম্বর নাগরিক তথা রাষ্ট্রপতিকে এমন হুমকি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে তাতে আমল না দিয়ে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। তার বক্তব্য, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর রাষ্ট্রপতিকে হুমকি দিয়ে খুব একটা ভুল করেনি ছাত্ররা।’