নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস উদযাপনের দিনেই দুই লজ্জার ঘটনার সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। কুমিল্লায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত শহিদ মিনার। আর বন্দর নগরী চট্টগ্রামে একুশে উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান মাঝপথে বন্ধ করে দিয়েছে পাকপ্রেমী বিএনপি। এমনকি কবিতা আবৃত্তির সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করায় শিল্পীকে হেনস্থাও করা হয়েছে। অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশে যে মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলন পালন অতীত তা বুঝিয়ে দিচ্ছে নব্য রাজাকার। ওই দুই ঘটনায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
শহিদ মিনার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। বৃহস্পতিবার রাতে চৌদ্দগ্রামের গুণবতী কলেজ চত্বরে থাকা শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কলেজের শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারীরা। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগটনের তরফেও শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ সবাই চলে যান। রাত দুটো নাগাদ বিকট শব্দ শুনতে পান কলেজের নৈশরক্ষী। ওই শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে তিনি দেখেন সহিদ মিনারের তিনটি স্তম্ভের মধ্যে দুটি মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গেই কলেজ অধ্যক্ষ ও পুলিশের গোচরে আনেন ঘটনাটি। শুক্রবার সকালে শহিদ মিনার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। যদিও চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলালউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘সিসিটিভি না থাকায় কারা শহিদ মিনার ভেঙেছে তা বোঝার উপায় নেই। তদন্ত চলছে।’
অন্যদিকে,, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অমর একুশে নামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল চট্টগ্রাম আবৃত্তি সম্মিলন। ওই অনুষ্ঠানে এক আবৃত্তিকারের কবিতা আবৃত্তির পরেই রে-রে করে মঞ্চে উঠে পড়েন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। কেন কবিতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ করা হল সেই প্রশ্ন তুলে শিল্পীকে শারীরিক হেনস্থা করার পাশাপাশি অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান পণ্ডের নায়ক জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ। অথচ আবৃত্তিকার ইচ্ছে করেই বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে দেশদ্রোহিতার কাজ করেছেন। তাই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’