নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসান হওয়ার পরেই পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নিশানায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তাঁর উপরে প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কা থাকায় আজ সোমবার (৩১ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নমাজ আদায় করছেন না সাংবিধানিক প্রধান। তার পরিবর্তে বঙ্গভবনেই ঈদের নমাজ পড়বেন। সূত্রের খবর, সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের পরামর্শেই ঈদগাহ ময়দানে নমাজ পড়তে যাচ্ছেন না রাষ্ট্রপতি।
সাধারণত ঢাকার ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নমাজেই অংশ নন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী। যদিও করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পরে সেই রীতিতে ছেদ পড়ে। ২০২০ সালে বঙ্গভবনেই ঈদের নমাজ আদায় করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ২০২১ ও ২০২২ সালে অবশ্য করোনার কারণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০২৩ সালে ফের ঈদগাহে নমাজ আদায় করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও এতদিন জাতীয় ঈদগাহেই নমাজ আদায় করতেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। কিন্তু গত বছরের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পরেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও পাকিস্তান পন্থীদের নিশানায় রয়েছেন তিনি। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনও ঘেরাও করেছিল আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মী সমর্থকরা।
এমনকি গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতিকে শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে না যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান প্রেমী হিসাবে পরিচিত বিপ্লবী যুব পরিষদ। ওই হুমকি অগ্রাহ্য করে অবশ্য শহিদ মিনারে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। শহিদ মিনারে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এমনকি রাষ্ট্রপতির উপরে হামলারও চেষ্টা চালায় বিপ্লবী যুব পরিষদের সন্ত্রাসীরা। তবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর জওয়ানরা অতি তৎপরতার সঙ্গে সেই হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে নিরাপদে রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নেন। সূত্রের খবর, সোমবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নমাজ পড়তে গেলে রাষ্ট্রপতির উপরে হামলা চালানোর ফের ছক কষেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বিপ্লবী যুব পরিষদের সদস্যরা। গোপন সূত্রে ওই পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের গোয়েন্দারা। তার পরেই রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবকে সতর্ক করে দেন। ঈদের নমাজ পড়তে সাহাবুদ্দিন যাতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে না যান সেই পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই পরামর্শের পরেই বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির নমাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।