নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আগামী নির্বাচনে দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে লড়তে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আর তাঁর ওই মন্তব্য ভালভাবে মেনে নেয়নি পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) দুজনেই আওয়ামী লীগকে ভোটে লড়তে দেওয়া নিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। হাসনাত যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ‘গণশত্রু’ হিসাবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন, সেখানে এক ধাপ এগিয়ে সারজিস বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার পরিণতি না চাইলে আওয়ামী লীগের ভোটে লড়ার রাস্তা বন্ধ করুন।’
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পরেই কার্যত বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে কর্পূরের মতো উবে গিয়েছে পূর্বতন শাসকদল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করার ধুয়ো তুলেছিল জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরী ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা তথা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মাহফুজ আলম-সারজিস আলম-হাসনাত আবদুল্লাহরা। যদিও বিএনপি-সহ দেশের শীর্ষ দলগুলি সরাসরি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা স্পষ্টতই জানিয়ে দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে পারবে কিনা, তা ঠিক করবে সাধারণ মানুষ। কোনও বিদেশি শক্তির দালালরা নয়। বিএনপি’র তীব্র আপত্তির মুখে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের সাহস আর দেখাননি মোল্লা ইউনূস গ্যাং।
তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ লড়তে পারবে কিনা, সেটাই এখন বাংলাদেশ জুড়ে বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে লড়বে আওয়ামী লীগ। তাঁর কথায়, ‘বিএনপি নেতারা ইতিমধ্যে বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সুতরাং তারা ইতিমধ্যে রায় দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামতকে উপেক্ষা করব না।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে ভোটে লড়তে না দিলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে এমন আশঙ্কায় ডিগবাজি খেয়েছেন ইউনূস।
কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার ওই মন্তব্য হজম হয়নি দুই জঙ্গি নেতা জঙ্গি হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের। এদিন নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত লেখেন, ‘ছেলেদের রক্তের ওপর পা রেখে দিল্লিকে কিবলা বানিয়ে ক্ষমতার মসনদে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জনগণের মুক্তির নিয়তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। আওয়ামী পুনর্বাসনের জন্য যারা উদ্যোগ নেবে, তাদের ইতিহাস গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত করবে।’ এর পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আর এক জঙ্গিনেতা সারজিস আলম বলেন, ‘ গণহত্যার বিচার সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেব না। প্রয়োজনে ২য় অভ্যুত্থান হবে। ইউনূস যদি শেখ হাসিনার মতো পরিণতি না চান, তাহলে আওয়ামী লীগকে ভোটে লড়তে দেবেন না।’