নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে জোর করে আটকে রেখে বিবৃতি আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ওই অপকর্মের জন্য অবিলম্বে তাঁকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই দাবি মেনে বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বিতর্কিত পুলিশ আধিকারিক হারুন অর রশীদকে। তাঁকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করেছে শেখ হাসিনা সরকার। অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) পদে পাঠানো হয়েছে। ডিএমপি’র নয়া গোয়েন্দা প্রধান হয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার মহম্মদ আশরাফুজ্জামান।
শাসকদল আওয়ামী লীগের ক্রীতদাস হিসাবেই গোটা বাংলাদেশে পরিচিত ছিলেন অপসারিত হারুন অর রশীদ। শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের একাংশের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধানের পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন। মূলত শাসকদলের হয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করা আর জেলে পোরাই মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর। কিন্তু গোয়েন্দা প্রধান হিসাবে কোটা সংস্কার আন্দোলন যে রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে পারে সে বিষয়ে আগাম খবর প্রশাসনের শীর্ষমহলকে জানাতে পারেননি হারুন অর রশীদ।
শুধু তাই নয়, কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সরকার বিরোধী চক্র গত মাস দুয়েক ধরেই রাজধানী ঢাকায় সক্রিয়তা বাড়িয়েছিল। সেই খবরও সংগ্রহ করতে পারেননি। উল্টে জোর করে হাসপাতাল ও বাড়ি থেকে কোটা আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে জোর করে ধরে নিয়ে গত ৫ দিন ধরে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকী ওই সমন্বয়কদের পণবন্দি করে জোর করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করারক্ষ মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গেও তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এতে ফল হিতে বিপরীত হয়। বুধবার ফের নতুন কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামেন কোটা আন্দোলনকারীরা। বরিশাল, চট্টগ্রাম-সহ একাধিক শহরে ফের নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। এর পরেই কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় হারুন অর রশীদকে।