নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: তিন কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ঢাকা। সংঘর্ষে পাঁচ ছাত্র প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও ওই তিন ছাত্রের লাশ গায়েবের মতো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে ঢাকা পুলিশের বিরুদ্ধে। তিন পড়ুয়ার মৃত্যুর খবরে ফুঁসছেন বাকি কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনার পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষীদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও লাশ গায়েবের খবর অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার সাজ্জাত আলী।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল রবিবার (২৪ নভেম্বর)। ভুল চিকিৎসায় অভিজিৎ হাওলাদার নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগের জেরে পুরাতন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ কাকলি মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হামলায় ধ্বংসস্তুপের চেহারা নিয়েছে কলেজ। ওই হামলার প্রতিবাদে এদিন দুপুরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলা চালায় নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের পড়ুয়ারা। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। মাহবুবুর রহমান কলেজে ঢুকে ব্যাপক ভাঢচুর চালানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র লুঠ করে নিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। সংঘর্ষের ফলে এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। লাঠি চালিয়ে এবং কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গের চেষ্টা চালায়। যদিও সফল হয়নি। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের পড়ুয়াদের নৃশংসভাবে মারধর করছেন হামলাকারীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় অনেকেই মাটিতে পড়ে রয়েছেন।
মাহবুবুর রহমান কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফ সামীর সাংবাদিকদের কাছে দাবি করৈছেন, ‘এদিনের নৃশংস হামলায় কলেজের তিন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি’। পরে জানা যায়, মাহবুবুর রহমান কলেজের পাঁচ পড়ুয়ার কোনও খোঁজ নেই। অভিযোগ উঠেছে, নিখোঁজ ওই পাঁচ পড়ুয়াই প্রাণ হারিয়েছেন এবং পুলিশ নিহত ছাত্রদের লাশ গায়েব করেছে।