নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ‘সুদখোর’ মহাজন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ধর্ষণ রাজ। এবার খোদ দেশের রাজধানী ঢাকাতেই গণধর্ষণের শিকার হলেন এক মহিলা সাংবাদিক। এক নির্মীয়মাণ ভবনে নিয়ে টানা সাত ঘন্টা ধরে ১৬ দুষ্কৃতী ধর্ষণ করে চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা সাংবাদিককে। ওই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকরা। অনেকই সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন ‘দেশে জঙ্গিবাদ আর ধর্ষণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠাই কী ছিল শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্য?’ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ঙ্গলবার (১৮ মার্চ) জানিয়েছেন পল্লবী থানার ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নির্যাতিতা মহিলা সাংবাদিককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই ক্ষমতায় এসে জঙ্গিদের পাশাপাশি খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত অপরাধীদের জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। আর জেলমুক্তির পরেই ফের শিয়ালের দল নখদাঁত বের করে মহিলাদের ‘ইজ্জত’ কাড়তে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। গত মাস খানেক ধরে দেশজুড়ে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছ। পাঁচ বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ-নরপিশাচদের হাত থেকে বাদ যাচ্ছেন না কেউই। প্রকাশ্যেই চলছ ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির মতো লজ্জাজনক ঘটনা। ভয়ে মেয়েদের স্কুল-কলেজে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন অভিভাবকরা। পারতপক্ষে রাস্তায় বাড়ির মেয়েদের পা রাখতে দিচ্ছেন না অভিভাবকরা। দেশজুড়ে যখন ধর্ষকদের রাজত্ব শুরু হয়েছে, মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে, ঠিক তখনই নরপিশাচদের ‘রক্ষাকর্তা’ হিসাবে আর্বিভূত হয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। ‘ধর্ষণ’ শব্দ না ব্যবহারের নিদান দিয়েছেন এবং ‘ধর্ষণের’ ঘটনার খবর প্রকাশ না করার জন্য সংবাদমাধ্যমকে নির্দেশও দিয়েছেন।
বিরামহীন ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে যখন ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ ঠিক তখনই খোদ রাজধানীর বুকে এক মহিলা সাংবাদিককে গণধর্ষণের খবর রীতিমতো আতঙ্কিত করে তুলেছে আমজনতাকে। পল্লবী থানার ওসি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘গতকাল সোমবার (১৭ মার্চ) মাটিকাটা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে, এমন খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট ও পল্লবী থানার সীমান্তবর্তী আজিজনগর এলাকায় যান এক দৈনিক পত্রিকায় মহিলা সাংবাদিক হিসাবে কর্মরত নির্যাতিতা। তখন কয়েকজন যুবক তাঁকে ধরে বারনটেকের গ্রিন সিটি এলাকার একটি নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় নিয়ে যায়। সেখানে রাত একটা থেকে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ওই মহিলা সাংবাদিককে ধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নির্যাতিতা কোনওভাবে ক্যান্টনমেন্ট থানার এক পরিচিত পুলিশ আধিকারিককে গণধর্ষণের ঘটনাটি জানান। ওই কথা শুনে চমকে ওঠেন ওই আধিকারিক। পল্লবী থানায় ফোন করতে তিনিই ওই ভয়ঙ্কর ঘটনার খবর দেন। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহিলা সাংবাদিককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজক হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। ধর্ষণে অভিযুক্ত দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নির্মাণাধীন ভবনটির তত্বাবধায়ক এনামুল হক। অন্যজন হলেন হামিদুর রহমান।