নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানা অবসানের পরেই মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকারের প্রচ্ছন্ন মদতে নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মৌলবাদী ও জঙ্গিরা।গত ১১ মাসে তালিবানি বাংলাদেশে এতটাই শক্তিশালী হয়েছে সন্ত্রাসীরা যে পুলিশের নাকের ডগাতেই নিজেদের জঙ্গি হিসাবে দাবি করে শ্লোগান তুলল। শুধু তাই নয়, ওসামা বিন লাদেনের তৈরি কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দার পতাকা হাতে মিছিলও করেছে। আর জঙ্গিদের ওই দাপাদাপি দাঁড়িয়ে দেখেছে মোল্লা ইউনূসের পুলিশ।। কিভাবে খোদ দেশের রাজধানীতেই আল কায়েদার পতাকা হাতে স্বঘোষিত জঙ্গিরা বিক্ষোভ করলেন তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছেন, ‘বাংলাদেশে আল কায়েদাকে কবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে তারা মিছিল করতে পারবে না?’ একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তদারকি সরকার তো সব কট্টর ধর্মীয় সংগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে আল-কায়েদার পতাকা হাতে মিছিলে অন্যায়ের কিছু নেই’।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল শুক্রবার (১৮ জুলাই) জুমার নমাজের আগে শতাধিক জঙ্গির দল ‘খেলাফত প্রতিষ্ঠা’, ‘জিহাদ ফরজ’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর দিকের প্রবেশ পথের সামনে জড়ো হয়। মিছিলকারীদের হাতে ছিল কালো রংয়ের পতাকা, যাতে আরবি হরফে লেখা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং নিচে সাদা গোলাকৃতির ব্যানারে লেখা ‘মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ’ লেখা। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দুই সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) ওই পতাকা ব্যবহার করে। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের পতাকা নিয়ে শুধু মিছিলই করেনি, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের জঙ্গি হিসাবেও সদর্পে ঘোষণা করে। শ্লোগান ওঠে, ‘তুমি কে, আমি কে? জঙ্গি-জঙ্গি’। ওই শ্লোগান শুনে মসজিদে নমাজ আদায়ে আসা অন্যান্যরা মুসল্লি ও আশেপাশের দোকানিরা হতচকিত হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাইতে শেখ হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনের সময়েও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার মদতপুষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা প্রকাশ্যেই নিজেদের ‘রাজাকার’ হিসাবে পরিচয় দিয়েছিলেন। নাহিদ ইসলাম-সারজিস আলম-হাসনাত আবদুল্লাহরা শ্লোগান তুলেছিলেন, ‘তুমি কে, আমি কে? রাজাকার-রাজাকার।’ ওই শ্লোগান শুনে হতচকিত হয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের লোকেরা। টানা নয় মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে রাজাকারদের (আজকের জামায়াত ইসলামী) হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল লক্ষাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে। এমনকি ধর্ষিতা হয়েছিল মা-বোনদের। এক সময়ে যে ‘রাজাকার’ শব্দ ছিল বাংলাদেশিদের কাছে ঘৃণা প্রকাশের ভাষা, সেই শব্দই এখন জাতীয় শ্লোগান হয়ে উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়ার পরে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলার পরিবর্তে ‘রাজাকার জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিচ্ছেন। প্রকাশ্যে নিজেদের জঙ্গি দাবি করে শ্লোগান দেওয়া এবং দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের পতাকা হাতে মিছিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রাক্তন পুলিশ প্রধান সৈয়দ আশরাফুল হুদা রাখঢাক না রেখেই বলেছেন ‘এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। পালাবদলের পরে জঙ্গিদের গণহারে মুক্তি দেওয়া, মামলা প্রত্যাহার করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের জমানায় জঙ্গি হওয়া অপরাধের নয়। বরং একুশে ও স্বাধীনতা পদক পাওয়ার যোগ্যতার নির্দশন।’