নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ পুলিশের প্রধানের পদ থেকে অপসারিত হলেন ময়নুল ইসলাম। তাঁর জায়গায় নয়া পুলিশ প্রধান হয়েছেন আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গিদের প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা বাহারুল ইসলাম। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধানের পাশাপাশি অপসারিত হয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মায়নুল হাসানও। তার জায়গায় নয়া পুলিশ কমিশনার হয়েছেন শেখ সাজ্জাদ আলী। দুজনের নিয়োগে যথেষ্টই বিস্মিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সূত্রের খবর, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পরামর্শ মেনেই বাহারুল ও শেখ সাজ্জাদ আলীকে বাংলাদেশ ও ঢাকা পুলিশের শীর্ষ পদে এনেছে মোল্লা ইউনূসের সরকার।
গত ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়ে বাংলাদেশের পুলিশের প্রধান অর্থাৎ আইজিপি ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। সরকার পতনের পরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে জেলেই বন্দি তিনি। মামুনের পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক আইজিপি পদমর্যাদার আধিকারিককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা করা। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান পদে নিয়োগ করা হয় ময়নুল ইসলামকে। ঢাকা পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমানের জায়গায় নিয়োগ করা হয় মায়নুল হোসেনকে। দুজনেই বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত। এর মধ্যে তো মায়নুল হাসান আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দেখা মাত্র গুলির আদেশ দিয়েছিলেন।
বুধবার (২০ নভেম্বর) আচমকাই বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান থেকে সরানো হয় ময়নুল ইসলামকে। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয় বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক বাহারুল ইসলামকে। ২০২০ সালে পুলিশ থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি। অবসরের চার বছর বাদে ফের তাঁকে ফেরানো হয়েছে। পুলিশে চাকরি করাকালীন ২০১৫ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তি রক্ষা মিশনের সিনিয়র পুলিশ উপদেষ্টা হিসাবে আফগানিস্তানে যান তিনি। সূত্রের খবর, আফগানিস্তানে গিয়ে তালিবানদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ গড়ে তোলেন। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরে তালিবান জঙ্গিদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। ফলে তাকে দেশে ফেরায় হাসিনা সরকার। তালিবান জঙ্গিদের প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করা একজন পুলিশ আধিকারিককে কেন বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে বসানো হল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।