নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জল্পনার অবসান। আগামিকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমাবারেই স্বাধীন বাংলাদেশে আত্মপ্রকাশ ঘটছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের চরদের নিজস্ব রাজনৈতিক দলের। নয়া দলের নাম হচ্ছে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’। নয়া দলের নেতৃত্বে থাকছে জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতারা। আহ্বায়ক পদে থাকছেন হিযবুত তাহরীর মিডিয়া সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব সামলাবেন হরকাতুল জিহাদের ক্যাডার নিয়োগ বিভাগের সমন্বয়ক আখতার হোসেন। এ ছাড়া হিযবুত তাহরীর সামরিক শাখার প্রধান নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী প্রধান সমন্বয়কারী , হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম আইএসআইয়ের এজেন্টরা সরাসরি নতুন কোনও দল গঠন করল।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে প্রাণ বাঁচাতে ঢাকা ছেড়ে দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিবর্তে যে তদারকি সরকার দেশ চালানোর ভার নিয়েছে তার প্রধান মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই ছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে রাজাকার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক। তদারকি সরকারের উপদেষ্টা পদেও পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের পেড এজেন্টদের নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারতে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালানোর উদ্দেশে নয়া এক রাজনৈতিক দল গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে গত মাসেই ঢাকায় এসেছিলেন চার শীর্ষ কর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক, ডিরেক্টর জেনারেল অ্যানালিসিস মেজর জেনারেল শহিদ আমির আফসার, মেজর জেনারেল আলম আমির আওয়ান এবং এসএসজি কর্তা মহম্মদ উসমান লতিফ। ২৩ জানুয়ারি ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) কামরান ধাঙ্গালের বাড়িতে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন তাঁরা। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়, শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা হিযবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকাতুল জিহাদি ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্যদের নিয়ে নয়া রাজনৈতিক দল গঠন করা হবে। ওই যেনতেন প্রকারেই হোক বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় বসানো হবে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ভোটার তালিকায় কারচুপি করার পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার শীর্ষ পদে পাকিস্তানপন্থী এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের বসানো হবে।
আইএসআই শীর্ষ কর্তারা জানান, প্রধান বিচারপতি, জনপ্রশাসন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে ইতিমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের বসানো হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনে থাকা মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের সন্তানদের সরিয়ে রাজাকার ও আলবদর পরিবারের সদস্যদেরও বসানো হবে। শেখ হাসিনার পর আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নির্মূল করাই নয়া দলের প্রধান লক্ষ্য হবে। আইএসআইয়ের সেই পরিকল্পনা মতোই কট্টর ভারত ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে নয়া দল। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বাংলামোটেরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেছিলেন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্টরা। ওই বৈঠকেই নয়া দলের নাম রাখা হয় ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি।’ বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী ‘রাজাকার’ ‘আলবদর’ এবং ‘আল শামস’ বাহিনীর সঙ্গে জড়িতদের পরিবারের সদস্যদেরই বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে। পরিচয় ভাঁড়িয়ে কোনও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক পরিবারের কোনও সদস্য যাতে নয়া দলে ঢুকতে না পারে সে দিকেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।