নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এবার তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসকে খুল্লামখুল্লা চ্যালেঞ্জ জানালেন সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। তদারকি সরকারের প্রধান যেখানে বার বার বলে চলেছেন, ‘চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনা’, সেখানে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সরাসরি ওই দাবি খারিজ করে আইএসআইয়ের এজেন্ট নাহিদ বলেছেন ‘চলতি বছর জাতীয় নির্বাচন করানো সম্ভব হবে না।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিসেম্বরে ভোট হলে কর্পূরের মতো উড়ে যেতে হবে আশঙ্কা করেই জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অছিলা তৈরির পথ খুঁজছে দেশে অরাজকতা তৈরির মুখ্য কারিগর নাহিদ ইসলাম।
সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামান ইতিমধ্যেই একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘চলতি বছরেই ভোট করে কোনও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে তদারকি সরকার।’ তাঁর কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের গলাতেও। সম্প্রতি একাধিক বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন ‘আশা করছি, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই দেশে নির্বাচন করতে পারব।’ এমনকি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’র দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা সামিরা হুসেইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা, তা ঠিক করবে ওই দলই।’ অর্থাৎ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ করার যে কোনও ভাবনা নেই তদারকি সরকারের, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
আর ইউনূসের ওই মন্তব্যেরই চটে লাল হয়েছেন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা তথা সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান নাহিদ ইসলাম। পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মুখ্য এজেন্ট বলেছেন ‘‘গত সাত মাসে আমরা সবাই আশা করেছিলাম, স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশি ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এটা একটা মাত্রায় ঘটেছে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার এখনও পুরোপুরি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এ বছর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি ব্যবস্থায় আমি মনে করি না, একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।’ তদারকি সরকার চাইলেও আওয়ামী লীগকে ভোটে লড়তে দেওয়া হবে না বলেও হুঙ্কার ছেড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান। তাঁর কথায়, ‘আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মাটিতে আর কখনই রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না। ভোটে লড়া তো দূরের কথা। সরকারের কেউ আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি দেখালে তার দশাও শেখ হাসিনার মতো হবে। আমরা ফের একটা জুলাই-অগস্ট ঘটাব।’