নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: তাঁর নির্দেশেই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপরে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল অধস্তন পুলিশ কর্মীরা। রক্তে ভিজেছিল ঢাকার রাজপথ। রবিবার রাতে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ ঢাকার পুলিশ কমিশনার তথা শাসকদল আওয়ামী লীগের ‘পোষ্যভৃত্য’ হিসাবে পরিচিত হাবিবুর রহমান ফের গর্জে উঠেছেন। আইন ভাঙলে চরম পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের হুমকি দিয়েছেন। মুখে না বললেও পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন, গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হবে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি ঘিরে রবিবার রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানীর শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুর-সহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভরত পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। ওই সংঘর্ষে চার শিক্ষার্থী-সহ ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শাসকদলের সশস্ত্র ক্যাডারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের হঠাতে একাধিক জায়গায় গুলিও চালিয়েছিল ঢাকা পুলিশের কর্মীরা। তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভয়কে জয় করে পুলিশের একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একাধিক ফাঁড়ি। ওয়ারী বিভাগের ডিসিসহ ডিএমপির মোট ১১ সদস্য আহত হয়েছেন।
এদিন রাতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের শেষ বারের মতো সতর্ক করে দেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। সরাসরি হুমকির সুরে তিনি বলেন, ‘আইন ভাঙলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। সর্বোচ্চ ক্ষমতার (পড়ুন গুলি চালিয়ে মারার) প্রয়োগ করা হবে।’ পাশাপাশি কার্ফু চলাকালীন কাউকে বাড়ির বাইরে পা না রাখার জন্যও সতর্ক করে দিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার। তাঁর কথায়, ‘জরুরি প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বের হবেন না। যারা কার্ফু ভাঙবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’