নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: চাকরি ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষণ বাতিলের দাবিতে চলা কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে চলা হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫০ জন। তার মধ্যে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটার পরে ৫ ও ৬ অগস্ট আওয়ামী লীগ-পুলিশ ও হিন্দু নিধন যজ্ঞে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫০ জন। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন দালাল হিসাবে পরিচিত রাষ্ট্রপুঞ্জ।
গত ১ জুলাই থেকে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল পড়ুয়াদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। ওই আন্দোলন ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। পুলিশ ও তৎকালীন শাসকদল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের ক্যাডারদের সঙ্গে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা বাংলাদেশ। রক্তে ভেসে যায় রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন শহর। পুলিশের সঙ্গে গুলিতে একাধিক পড়ুয়া-সহ সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। পাল্টা থানায় আগুন ধরিয়ে পুলিশকে পুড়িয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে পড়ুয়া এবং বিএনপি-জামায়েত সন্ত্রাসীরা। ৫ অগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পরে দেশ জুড়ে চরম অরাজকতা তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর একাংশের মদতে পুলিশ-আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং হিন্দুদের নিশ্চিহ্ন করার অভিযানে ঝাঁপায় আন্দোলনকারী পড়ুয়া এবং বিএনপি-জামায়েত সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া গাছে।
কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের সময়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ কত প্রাণহানি হয়েছে তা নিয়ে যেমন পূর্বতন শেখ হাসিনা সরকার কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি, তেমনই হাসিনা যুগের অবসানের পরে পড়ুয়া-বিএনপি ও জামায়েত সন্ত্রাসীদের নারকীয় হামলায় কতজন প্রাণ হারিয়েছে তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে অন্তর্ববর্তী সরকারও। শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ অগস্ট পর্যন্ত ৪০০ জন এবং ৫ ও ৬ অগস্ট ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের নিরিখে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে।