নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত হওয়ার মূল্য চোকাতে হচ্ছে প্রাক্তন সেনা কর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল হাসানকে। দেশে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তাঁকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আর গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলখেত থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিউমার্কেট থানায় দায়ের হওয়া এক হত্যা মামলায় প্রাক্তন মেজর জেনারেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই জিয়াউল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ৫ অগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতপুষ্ঠ বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের নেতৃত্বে সেনা বিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যূত হন মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। আর তার পরেই বাংলাদেশের সেনা থেকে প্রশাসন-সর্বত্রই মুক্তিযোদ্ধাপন্থীদের হঠিয়ে পাকিস্তান প্রেমী ও ধর্মীয় মৌলবাদীদের পুনর্বাসনের পালা শুরু হয়েছে। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে সেনা কর্তা জিয়াউল হাসান, ঢাকার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, বিশেষ শাখার প্রধান মনিরুল ইসলামকে। ঢাকা-সহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও পুলিশ-সেনা ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের জেলে পোরার কাজ শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই প্রাক্তন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আমেদ পলক, ভেঙে দেওয়া জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-সহ একাধিক মন্ত্রী-নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ইতিমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টা তথা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মুহাম্মদ ইউনূস নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে দেশ থেকে।’ আর সেই হুকুম পালনে কোমর কষে নেমেছে সেনাবাহিনী-পুলিশ ও বিজিবি।