নিজস্ব প্রতিনিধি: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে আরজি কর কাণ্ড ঘিরে চলা আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে সামিল হয়েছিল সব দল। আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক ছুঁতমার্গকে দূরে সরিয়ে একই সঙ্গে রাস্তায় নেমেছে বাংলার জনগণদ্বারা প্রত্যাখিত রাম (বিজেপি), বাম (সিপিএম) এবং কংগ্রেস। এবার বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বেহালায় প্রাক স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরজি কর কাণ্ড নিয়ে রাজ্যজুড়ে অরাজকতা তৈরির ষড়যন্ত্রকে বিঁধে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে একটা ঘটনা ঘটে গেছে। অনেকে ভেবেছেন সেই ঘটনা টেনে এনে যদি ক্ষমতা দখল করতে পারেন। শুনে রাখুন, আমার ক্ষমতার মায়া নেই।’
পাশাপাশি আআচমকা সাধু পুরুষ সেজে নাগরিক, মূল নাগরিক, সুনাগরিক-সহ একাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ব্যানারে নেমে পড়েছে সিপিআইএম। এদিন ৩৪ বছরের বাম জমানায় রাজ্যজুড়ে চলা নারী নির্যাতন-ধর্ষণের ঘটনাও তুলে ধরে শূন্যে পৌঁছে যাওয়া সিপিএমকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘বানতলায় অনিতা দেওয়ানকে গণধর্ষণের ঘটনা ভুলে গিয়েছেন? নার্স বর্ণালী দত্তকে কারা খুন করেছিল? বিজন সেতুতে আনন্দমার্গীদের নৃশংশভাবে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। ওই কাণ্ডের হোতারা নতুন করে রাস্তায় নেমেছেন।’
কলকাতা পুলিশের তদন্তে খুশি ছিলেন না জুনিয়র চিকিৎসক ও ইন্টার্নরা। তদন্তে ঢিলেমির অভিযোগও তুলেছেন পাঁচ দিন ধরে রোগীদের মৃত্যুর মুখে ফেলে রেখে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সামিল হয়েছেন হবু চিকিৎসকরা। যদিও ঢিলেমির অভিযোগ মানতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু কোনও নির্দোষ যাতে এই ঘটনায় অকারণে না ফাঁসেন তার জন্য সতর্ক হয়ে পুলিশ পা ফেলেছে বলে তাঁর দাবি। এ প্রসঙ্গে হেতাল পারেখ হত্যাকাণ্ডে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের ফাঁসির প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘আমরা চেয়েছি, প্রকৃত দোষী শাস্তি পাক। এএকজন নির্দোষ ব্যক্তি যেন কোনও কারণে শাস্তি না পায়। প্রমাণ ছাড়া নির্দোষকে কীভাবে গ্রেপ্তার করব? ধনঞ্জয়ের ঘটনা মনে আছে তো? ধনঞ্জয়ের ঘটনায় যা হয়েছিল, তা যেন আর না হয়। মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া হয়েছিল। যিনি দিয়েছিলেন তিনি এখন অনুশোচনা করছেন। বলছেন, মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাঁকে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। অথচ বুদ্ধধেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা দেবী ধনঞ্জয়ের ফাঁসির দাবিতে ধর্মতলায় মিছিল করেছিলেন। পুলিশকে মামলার নিষ্পত্তি করতে রবিবার অবধি সময় দিয়েছিলাম। তার আগেই সিবিআইয়ের হাতে গেল মামলা। রবিবারের মধ্যে মামলার কিনারা হোক। আমরাও ফাঁসি চাই।’