নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিরতা থামার কোনও লক্ষ্যই নেই। রবিবারই সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে বলে ঐতিহাসিক রায়ও দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের ওই রায়কে সরকার স্বাগত জানালেও অবস্থান নমনীয় করতে রাজি নন কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘন্টা বাদে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর চার সমন্বয়ক জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পুরোপুরি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কোটা আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত সঙ্ঘাতের পথ বেছে নেওয়ায় শিগগিরই দেশে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই।’
গত কয়েকদিন ধরে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে অগ্নিগর্ভ দেশ। পুলিশ এবং শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডারদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে এদিন যুগান্তকারী রায় দিতে গিয়ে পড়ুয়াদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান-সহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।
কিন্তু সেই অনুরোধে সাড়া দিচ্ছেন না কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা পড়ুয়ারা। ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আদালতের রায় অস্পষ্ট। আমাদের মূল দাবি নির্বাহী বিভাগের কাছে। সেসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত, দেশ জুড়ে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চলবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অনেক পড়ুয়া প্রাণ হারিয়েছেন। সেই গণহত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এদিন বেশ কয়েকটি দাবি উত্তাপন করা হয়েছে। সেগুলি হল-
কোটা আন্দোলনকারীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে
পড়ুয়াদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজামান এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে –ইস্তফা দিতে হবে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে
দেশ জুড়ে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে হবে
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে