নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে স্বাধীনতার দুইদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যা করেছিল পাকিস্তানি খান সেনা। কথাসাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার-সহ একাধিক বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে খুন করেছিল। যদিও আগাম ঘোষণা দিয়ে ওই হত্যালীলা চালানো হয়নি। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে এবার প্রকাশ্য সভাতেই মুক্তিযোদ্ধাপন্থী বুদ্ধিজীবীদের খুনের হুমকি দিল জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা তথা আইএসআই মদতপুষ্ঠ সংগঠন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি)সিলেটের কাজী নজরুল অডিটোরিয়ামে এক সভায় বুদ্ধিজীবীদের খুনের হুমকি ছুড়ে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের হয়ে যারা কথা বলবে, তাদের নিশ্চিহ্ন (পড়ুন খুন)করে দেওয়া হবে। শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে তাড়িয়েছি। কিন্তু বুদ্ধিজীবীদের সেই সুযোগ দেব না। নতুন বাংলাদেশের মাটিতে জ্যান্ত পুঁতে দেব। যেভাবে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পাক সেনারা মুসলিম বিদ্বেষী বুদ্ধিজীবীদের খতম করেছিল, প্রয়োজনে সেই পথে হাঁটা হবে।’
আচমকাই বুদ্ধিজীবীদের প্রকাশ্য সভায় কেন খুনের হুমকি দিলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা তথা পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট আখতার? গত ৫ ফেব্রুয়ারি আগাম ঘোষণা দিয়েই বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জাতীয় নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও হিযবুত তাহরীর জঙ্গিরা। শুধু বঙ্গবন্ধুর বাড়ি নয়, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী-সাংসদের বাড়ি, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক। ওই নারকীয় ধ্বংসলীলার নিন্দা জানিয়ে দেশের ২৬ বিশিষ্ট নাগরিক কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা স্তম্ভিত, লজ্জিত ও মর্মাহত।’ সেই সঙ্গে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের উদাসীনতাকে বিঁধেছিলেন। বুদ্ধিজীবীদের ওই প্রতিবাদ হজম হয়নি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জাতীয় নাগরিক কমিটির শীর্ষ নেতা আখতারের।
সিলেটের সভায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানানো বুদ্ধিজীবীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশে আমরা এমন এক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছি, যেখানে কোনও রাজনৈতিক দল ভারতের তাঁবেদারি করবে, বাংলাদেশের মানুষ তা আর হতে দেবে না। আওয়ামী লীগারদের মতো বেহায়াদের, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মানুষ আর রাজনীতি করতে দেবে না। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। বিশিষ্ট নাগরিকের নামে যারা হাসিনার প্রেতাত্মাদের পক্ষে দাঁড়াবার রাজনীতি করছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ঘুরে দাঁড়ানোর বৈধতা দিতে চায় তাদের ধ্বংস করার জন্য বাংলাদেশের ছাত্র-জনগণই যথেষ্ট। আর কোনও ভাবে যদি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার, ফিরিয়ে নিয়ে আসার চক্রান্ত করা হয়, তাহলে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরের মতো ঘটনা ঘটবে।’