নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকা: বিচার প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের অনধিকার চর্চার বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হুঙ্কার ছেড়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের শীর্ষ কর্তারা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা কথা বলছেন। তারা স্পষ্ট জেনে রাখুন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন। কারও ধার ধারে না। আমরা কারও কথাও শুনব না। বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি করে এমন কোনও মন্তব্য করবেন না।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর নামে কোনও প্রহসনের যে তিনি অংশীদার হবেন না, তা এদিন স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার।
কিন্তু আচমকাই কেন মোল্লা ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান? গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। এর পরেই জুলাই-অগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনের জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্য সহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে খুন-গুমের মামলা দায়ের করেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার মদতপুষ্ঠ মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এমনকি বাদ যাননি দেশের প্রাক্তন দুই ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান-মাশরাফি বিন মর্তুজা সহ মুক্তিযোদ্ধাপন্থি সাংবাদিক, সাহিত্যিক অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং গায়করাও। ওই মামলার বিচার হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। যে আদালত গঠন হয়েছিল শেখ হাসিনার জমানায়। বঙ্গবন্ধু কন্যা-সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বঘোষিত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং জঙ্গি সংগঠন শারকীয়া হিন্দালের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক তাজুল ইসলামকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা-সহ তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে চলা মামলার রায় কবে বের হবে তা নিয়ে বুধবার আলটপকা মন্তব্য করেন মুহাম্মদ ইউনূসের বিশ্বস্ত সঙ্গী তথা আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আগামী অক্টোবরের মধ্যেই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার মধ্যে ৩-৪টির রায় ঘোষণা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন তিনি। আর ওই মন্তব্য নিয়ে বৃহস্পতিবার উষ্মাপ্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার। কার্যত অন্তর্বর্তী সরকারের দাদাগিরির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন। কারও ধার ধারে না। আমরা কারও কথাও শুনব না। এ ধরনের বক্তব্য বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি করবে। যেখানে মামলার তদন্তই শেষ হয়নি তখন রায়ের কথা বললে বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হবে। কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের তাগিদ থাকতে পারে। কিন্তু সরকারের সেই মনোবাসনা পূর্ণ করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব নয়।’ এর পরেই ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্য করা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার।