নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামানকে কোণঠাসা করতে পাক গুপ্তচর সংস্থার নির্দেশে কোমর কষে ঝাঁপালেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। সূত্রের খবর, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামানকে বরখাস্তের সুপারিশ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে চিঠি পাঠাচ্ছেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি নয়া সেনাপ্রধান হিসাবে আইএসআইয়ের দোসর প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট কামরুল হাসান কিংবা কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যাট জেনারেল ফাইজুর রহমানের মধ্যে কোনও একজনকে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসাবে নিয়োগ করারও সুপারিশ করতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই ইউনূসের নির্দেশে ওই চিঠির খসড়া চূড়ান্ত করেছেন তার বিশেষ সহকারী শফিউর রহমান। যদিও তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সুপারিশ রাষ্ট্রপতি মানবেন কিনা তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার (২৪ মে) উপদেষ্টা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে জেনারেল ওয়াকারকে হঠানোর প্রস্তাব পেশ করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বৈঠকে হাজির বিদেশ, পরিকল্পনা, অর্থ ও ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা বাদে বাকি ১৫ উপদেষ্টা খলিলুরের কথায় সায় দেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সেনাপ্রধান পদে ওয়াকারকে রাখা তদারকি সরকারের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি ও জামায়াত ইসলামীর ক্ষমতা দখল অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ওয়াকার থাকলে চট্টগ্রাম বন্দর কিংবা সেন্ট মার্টিন-কোনওটাই আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যেই ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের আধিকারিকরা দ্রুত সেন্ট মার্টিন হস্তান্তরের চাপ দিচ্ছেন।’ তবে সেনাপ্রধানের পদ থেকে ওয়াকারকে সরালে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে বলে নিজের মত প্রকাশ করেন তৌহিদ হোসেন। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেনও সেনাপ্রধান নিয়ে কোনও চরম পথে না হাঁটার পরামর্শ দেন।
যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ উপদেষ্টা সেনাপ্রধানকে হঠানোর পক্ষে সায় দেওয়ায় মোল্লা ইউনূস জানিয়ে দেন, জেনারেল ওয়াকারকে অপসারণের সুপারিশ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে চিঠি দেওয়া হবে। তাতে না সাড়া মিললে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে জামায়াত ইসলামী-এনসিপি ও অন্য মুসলিম মৌলবাদী দলগুলোকে রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হবে। রাতে জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে সেনাপ্রধানকে অপসারণের সুপারিশ করার বিষয়টি উল্লেখ করেন। দুই দলের নেতারাই জানিয়ে দেন, তারা এই ইস্যুতে ইউনূসের পাশে রয়েছেন। এনসিপির শীর্ষ নেত্রী তাসনিম জারা জানিয়েছেন, সেনাপ্রধানকে অপসারণের সুপারিশ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে আমাদের মত জানতে চেয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, ওয়াকারকে পদ থেকে হটানোর ইস্যুতে ইউনূসের পাশে থাকবে এনসিপি।