নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: ১৯৯০ সালে শেষ বার নিরস্ত্র জনতাকে সবক শেখাতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তার পর ৩৫ বছর বাদে ফের খুনেবাহিনীর ভূমিকায় দেখা গেল জংলা পোশাকধারীদের। গতকাল বুধবার (১৬ জুলাই) যেভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সমাধি রক্ষাকারী নিরস্ত্র জনতার উপরে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে সেনাবাহিনী, তাতে শিউরে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। আর ওই নির্বিচারে গুলি চালানোর জন্য দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ধিক্কারের মুখে পড়েছে জামায়াত ইসলামী শিবিরের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান। বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনার ওই খুনে রূপের সঙ্গে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর তুলনা টেনে তুলোধনা করেছেন নেটা নাগরিকরা।
ওই ধিক্কারের মুখে পড়ে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সেনাবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতরের তরফে ফেসবুকে এক পোস্ট করা হয়েছে। তাতে নির্বিচারে গুলি চালানোর পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, ‘গোপালগঞ্জে একটি রাজনৈতিক দলের জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আহ্বান করা জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকার একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা বুধবার সংঘবদ্ধভাবে সদর উপজেলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সরকারি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে এবং প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সেনাবাহিনী হামলাকারীদের মাইকে বারবার ঘোষণা দিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা সেনাবাহিনীর ওপর বিপুল সংখ্যক ককটেল ও ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা করে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী আত্মরক্ষায় বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়।’
সেনাবাহিনীর গুলিতে পাঁচ নিরীহের মৃত্যুর ঘটনায় যেমন শোকপ্রকাশ করা হয়নি, তেমনই গুলি করে একাধিক লাশ মধুমতী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে টুঁ শব্দ করা হয়নি। ফলে সেনা জনসংযোগ দফতরের ওই বিতর্কিত পোস্ট ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি ঢেলেছে। অনেক নেটা নাগরিক পোস্টের নিচে লিখেছেন, ‘এতদিন ধর্ষণ-তোলাবাজির জন্য পরিচিত ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এখন দেখা যাচ্ছে জঙ্গিদের হয়ে সুপারি কিলারের ভূমিকা পালন করছে।’