নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: আসলে কী চাইছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ জামান? আপাতত এটাই এখন বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন গোটা বাংলাদেশের আম জনতার। তিনি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানি মদতপুষ্ঠ জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনকি আওয়ামী লীগকে পুর্নবাসন করার চেষ্টা করলে সমুচিত জবাব পেতে হবে বলে সেনাপ্রধানকে খুল্লামখুল্লা হুঙ্কার ছেড়েছেন শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ আন্দোলনের অন্যতম সেনাপতি তথা জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। আর সেই হুমকির ২৪ ঘন্টার মধ্যেই জুলাই আন্দোলনে আহতদের ইফতার পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। সেনা নিবাস আয়োজিত ইফতারে হাসিনাকে উচ্ছেদকারীদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। আর তার পরেই জোর জল্পনা চলছে, তাহলে কী দেশ চালানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান।
জুলাই-অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের উদ্দেশে যখন কোটা বিরোধী আন্দোলন চরমে পৌছেছিল, তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শোনা যায়, খোদ সেনাপ্রধন ওয়াকার-উজ জামানই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি ৫ অগস্ট হাসিনা দেশ ছাড়ার পরে বঙ্গবন্ধুর মূর্তি এবং ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিল সেনা সদস্যরা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যখন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়ি-সহ গোটা দেশে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল তখনও হাত গুটিয়ে বসেছিল সেনাবাহিনী। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি। শুধু তাই নয়, গত সাত মাসে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হওয়ার অপরাধে একাধিক সেনা আধিকারিককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। আর তার পিছনে বিশেষ অবদান ছিল খোদ সেনাপ্রধানের।
কিন্তু গত সপ্তাহে আচমকাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর দুই শীর্ষ নেতা সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহের সঙ্গে সেনানিবাসে বৈঠক করেন ওয়াকার-উজ জামান। ওই বৈঠকেই নাকি তিনি আওয়ামী লীগকে ফের রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাতে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেছেন হাসনাত। আর তা নিয়েই গত চারদিন ধরে তোলপাড় গোটা দেশ। সেনাপ্রধান আসলে কী চাইছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ৫ অগস্টে সাহসী ভূমিকার জন্য যাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিলেন, তাদের কাছেই ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হন। দেশ জুড়ে চলা বিতর্কের মাঝেই রবিবার আচমকা সেনানিবাসের সেনামালঞ্চে জুলাই আন্দোলনে আহতদের ইফতার ও নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। যদিও আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা কাউকে ডাকা হয়নি।
ওই ইফতারে হাজির হাসিনা উচ্ছেদ আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন সেনাপ্রধান। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কেউ-কেউ আপনাদের সেনাবাহিনী নিয়ে ভুল বোঝাচ্ছে। আপনারা কখনও মনোবল হারাবেন না। মনোবল হারানোর কিছু নাই। আপনারা জাতির কৃতি সন্তান। আপনারা এই দেশ ও জাতির জন্য অনেক কিছু ত্যাগ করেছেন। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনাদের এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব। আমরা আজ পর্যন্ত ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি আহতকে চিকিৎসা দিয়েছি এবং দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সবার এই সাহায্য সহযোগিতা সব সময়ের জন্য জারি থাকবে। আমরা চেষ্টা করব আপনাদের একটা পুনর্বাসনের জন্য।এই আর্থিক সহযোগিতা সব সময়ের জন্য জারি থাকবে ইনশাল্লাহ।’ আন্দোলনকারীদের হাতে ঈদ উপহারও তিনি তুলে দেন।