নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার পতনের পরেই দেশ জুড়ে নখদাঁত বের করে ঝাঁপিয়ে পরেছে জঙ্গিরা। প্রকাশ্যেই মিছিল করছে আল কায়েদা, হিযবুত তাহরীর মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। যদিও দেশে কোনও জঙ্গি নেই বলে গত কয়েকদিন ধরে কোরাস সুরে দাবি জানিয়ে চলছিলেন হিযবুতের শীর্ষ নেতা তথা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী থেকে শুরু করে ঢাকার পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী। অবশেষে পোষ্য ভৃত্যদের উল্টোপথে হেঁটে দেশে জঙ্গি থাকার কথা স্বীকার করে নিলেন তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গিদের ঘাঁটি নির্মূল করা হবে। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কোনও জঙ্গি সংগঠনকে কার্যকলাপ চালাতে দেওয়া হবে না।’
গত বছরের ৫ অগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে। এর পর গত ৮ অগস্ট ক্ষমতায় বঙ্গবন্ধু কন্যার জমানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম সহ ২৩টি জঙ্গি সমগঠনের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থার পোষ্যভৃত্য মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিমউদ্দিন রেহমানি সহ জেলে বন্দি সাড়ে তিন হাজার জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাও প্রত্যাহার করা হয়। আর তাতেই নতুনভাবে উৎসাহিত হয়ে আসরে নামে হিযবুত তাহরী, জেএমবি-র মতো ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। বিভিন্ন জায়গায় মব সৃষ্টি করে হিন্দুদের উপরে নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গুপ্ত হত্যাতেও মেতে ওঠে। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এক রিপোর্টে জানায়, বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেটের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি। সম্প্রতি আইএসের হয়ে কাজ করার অপরাধে ৩৬ বামলাদেশিকে গ্রেফতার করে মালয়েশিয়া পুলিশ।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলির নতুন করে সংগঠিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সোমবার ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসন। জঙ্গি সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশকে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার পাশাপাশি বাণিজ্যও স্তগিত রাখা হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে জঙ্গি নেই বলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও ঢাকার পুলিশ কমিশনার যে মন্তব্য করেছেন তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন। মার্কিন দূতকে শান্ত করতে ইউনূস বলেন, ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে। সর্বশক্তি দিয়ে জঙ্গিদের বাংলাদেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হবে।’