নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম : পুজো আসতে আর বাকি কয়েকদিন। নিম্নচাপের আশঙ্কা ও মৌসুমী অক্ষরেখার জেরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও রাজ্যজুড়ে এখন পুজো পুজো গন্ধ। আকাশে হালকা মেঘ, গ্রামাঞ্চলে পথের ধারে কাশফুলের মেলা। প্রকৃতি সাজিয়ে রেখেছে আগমনের বার্তা। পুজো আসলেই মনটা কেন জানি উড়ু উড়ু হয়। অনেকেই এই পুজোর ছুটিতে ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। বাঙালি মানেই ভ্রমণ প্রিয়। ৩-৪ দিন সময় পেলেই কাছে পিঠে ঘুরে আসা বাঙালির কাছে কোনও ব্যাপারই নয়। পুজোর সময় বেশ কয়েকদিন ছুটি থাকায় অনেকেই ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করেন। উত্তরবঙ্গে প্রায়ই মানুষ ঘুরে আসেন। তাই এবার পুজোয় ঘুরতে যেতে চাইলে আপনার পছন্দের জায়গা হয়ে উঠতে পারে ঝাড়গ্রাম।
প্রতিবছর পুজোর সময় বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জঙ্গলমহলের একাধিক জেলাতে ভিড় উপচে পড়ে। একমাস আগে থাকতেই বুকিং শুরু হয়ে যায়। এরজের খুশির হাওয়া ঝাড়গ্রামের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। হোটেল মালিক থেকে শুরু করে গাড়ি ব্যবসায়ীরাও অত্যন্ত খুশি। তার কারণ আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বুকিং। কয়েক দশক আগেও এই এলাকাগুলোতে শুধুই শোনা যেত ভারী বুটের শব্দ। সন্ধের নামার আগেই ঘরের মধ্যে ঢুকে যেতেন সকলেই। অন্য জেলা থেকে এই জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার কথা সেই সময় কেউ ভাবতেই পারত না। এই এলাকাগুলি ছিল তখন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকা। সেই জায়গায় এখন প্রকৃতিপ্রেমী এবং পর্যটকদের কাছে স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে।
শাল, পিয়াল, মহুয়ার জঙ্গলে বিভিন্ন রকমের পাখি সহ একাধিক জন্তু দেখতে পাওয়া যায়। নিজেদের মতো করে নিঃশব্দে বিচরণ করে বেড়ায় তারা। আদিম মানুষের লালজল গুহা থেকে শুরু করে বেলপাহাড়ি, ঢাঙ্গিকুসুম, ঘাগড়া জলপ্রপাত দেখতে পছন্দ করেন পর্যটকরা। হোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অনেক পর্যটক বেলপাহাড়ি আসতে চাইছেন। সেখানে কাঁকড়াঝড়ের বেশিরভাগ গেস্ট হাউস হোমস্টে এখন থেকেই বুকিং ফুল হয়ে গিয়েছে।
ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ী থেকে শুরু করে বাঁদরভুলার ট্রাইবাল ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, জঙ্গলমহল জুলজিক্যল পার্ক, চিল্কিগড় কনক দূর্গা মন্দির, চিল্কিগড় রাজবাড়ি দেখতে যেতে পারেন। জানা গিয়েছে ৩০০ বছর পর চিল্কিগড় রাজবাড়ির অন্দরমহল খুলে দেওয়া হচ্ছে জনসাধারণের জন্য।