নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া এবং তার মর্মান্তিক পরিণতিকে কেন্দ্র করে শিরোনামে উঠে এল ঝাড়গ্রাম। একটি অত্যন্ত অল্পদামী মোবাইল ফোন প্রাণ কাটলো দুজনের। সম্পর্কে তাঁরা বাবা ও ছেলে। আসলে মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে দাদা ও ভাইয়ের মধ্যে অশান্তি হচ্ছিল। তাতেই গিয়েছে দুটি প্রাণ। গুরুতর জখম অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও চারজন। বুধবার এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের পাতিনা গ্রামের সিংধুই গ্রামে।
এই গ্রামেরই বাসিন্দা বুধিয়া নায়েক এবং সারূপ নায়েকের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই মোবাইল হ্যান্ডসেট চুরি নিয়ে অশান্তি চলছিল। সম্পর্কে দুজনে দাদা ও ভাই। দাদার সন্দেহ ছিল ভাই মোবাইল চুরি করেছে। এই নিয়ে বুধবার বিকেলে দুই পরিবারের সদস্যরা আলোচনায় বসেন। প্রতিবেশীরা আশা করেছিলেন এবার অশান্তি মিটবে। কিন্তু বাস্তবে হল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আলোচনা শান্তভাবে শুরু হলেও ক্রমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আচমকাই বড় ভাই বুধিয়া নায়েক তার দুই ছেলে কালিপদ ও বাবুল নায়েক এবং জামাই দুনিয়া নায়েক কুড়ুল দিয়ে ছোট ভাই সারূখ নায়েক ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালায়।
কুড়ুলের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান পঞ্চান্ন বছরের সারূপ। সেই সঙ্গে মৃত্যু হয় তাঁর বড় ছেলে বছর পঁয়ত্রিশের যুবক অজয় নায়কের। অন্যদিকে গুরুতর জখম হন সারূপের স্ত্রী আরতি নায়েক এবং তার তিন ছেলে তাপস, সঞ্জয় এবং লক্ষী নায়েক। তড়িঘড়ি জখমদের নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় নয়াগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবুল ও দুনিয়া নায়েককে ইতিমধ্যে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ।