নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮০তম অধিবেশন বসছে। আর ওই অধিবেশনে ঘটতে চলেছে কাকতালীয় ঘটনা। ২৬ সেপ্টেম্বর একই দিনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের। গত বছরের ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে তিন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমীকরণে অনেকটাই বদল হয়েছে। ফলে তিন নেতার ভাষণের দিকে তাকিয়ে কূটনৈতিক মহল।
রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। তবে রাষ্ট্রপ্রধানরা ভাষণ দেবেন ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চলতি বছর অধিবেশনের মূল বিষয় হলো-‘বেটার টুগেদার: এইটি ইয়ার্স অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’। অধিবেশনে প্রথম বক্তৃতা করবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা। এরপর ভাষণ দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই হবে রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর প্রথম ভাষণ। ২৬ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা ইউনূস। সূচি অনুযায়ী, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পরপরই শাহবাজ শরিফের বক্তৃতা নির্ধারিত রয়েছে। ফলে মোদির ভাষণের জবাব দেওয়ার কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়েছে শাহবাজ শরিফের কাছে। পাক প্রধানমন্ত্রীর পরে ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পরে প্রত্যাঘাত হিসাবে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পরে দিল্লি-ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক সমীকরণের আমূল বদল ঘটেছে। দিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদ ও ঢাকার সম্পর্ক যেমন তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে, তেমনই ইসলামাবাদ ও ঢাকা পরস্পরের অনেক কাছাকাছি এসেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিদেশ মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন। দু’দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর পাশাপাশি সামরিক সম্পর্কও গাঢ় হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে দিল্লিকে কোনঠাসা করতে হাতে-হাত মিলিয়েছে শাহবাজ শরিফ ও ইউনূসের সরকার।