নিজস্ব প্রতিনিধি,কার্শিয়াং: উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াং – এ একটি বেসরকারি হোমস্টের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু এক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্রের। মৃত ছাত্রের নাম সপ্তনীল চট্টোপাধ্যায় (২২)। দক্ষিণ কলকাতায় একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কম্পিউটার সায়েন্সের(Computer Science) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সোমবার ভোরে হোমস্টের সামনে রাস্তায় তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বাড়ি হাওড়ার বাগনানের দেউলটি সামতা গ্রামে। জানা গেছে, সপ্তনীল তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে কার্শিয়াং- এর ডাউহিলে নির্জন পরিবেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। থাকছিলেন হোমস্টেতে(Home Stay)।
সোমবার তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। ভোর বেলায় তার বন্ধুরা বাড়িতে ফোন করে জানায় অবিলম্বে যেন তার বাবা-মা কার্শিয়াং -এ(Kurseong) চলে আসেন। ভিডিও কলে(Video Call) এক ঝলক তাকে দেখায়। কি কারনে মৃত্যু তা বুঝে উঠতে পারছেন না বাড়ির লোকেরা। তারা চান পুলিশি তদন্ত হোক। যাতে প্রকৃত সত্য উঠে আসে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে গোটা পরিবার শোকস্তব্ধ। সেখানে যাওয়ার পর সেখানকার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবে ওই মৃত ছাত্রের পরিবার।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে পাঁচ বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে আসেন সপ্তনীল। তাঁরা কার্শিয়াং এর ডাউহিল রোডের একটি হোমস্টে-তে ওঠেন। দলের ছ’জনের মধ্যে চারজনই মহিলা ছিলেন। সোমবার তাঁদের ফেরার কথা ছিল।
ইতিমধ্যে তারা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। এটি আত্মহত্যা নাকি তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে প্রস্তুতি ফেলে দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে সেখানকার প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। এর পাশাপাশি এই মৃত্যুর পেছনে স্রেফ দুর্ঘটনা কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রের বেড়াতে গিয়ে এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।এই ঘটনায় মৃত ছাত্রের পরিবার সঙ্গে থাকা বন্ধু-বান্ধবদের পুলিশি জেরার দাবি জানিয়েছে। তারা সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও কি করে এই ধরনের অঘটন ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃত ছাত্রের মা।
ভোর পাঁচটা নাগাদ হঠাৎ ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। তাঁরা দেখেন, হোমস্টের সামনে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন ওই যুবক। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে কার্শিয়াং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে(North Bengal Hospital) পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে হাওড়া থেকে তাঁর পরিবার শিলিগুড়ি এসে পৌঁছেছে।