নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আচমকাই উপরাষ্ট্রপতির পদে ইস্তফা দিয়েছেন বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। সোমবার (২১ জুলাই) বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সেই ইস্তফা গ্রহণও করেছেন রাষ্ট্রপতি। যদিও স্বাস্থ্যগত কারণে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ইস্তফাপত্রে উল্লেখ করেছেন ধনখড়, কিন্তু সূত্রের খবর রাজ্যসভায় শাসক শিবিরের দলনেতা জেপি নাড্ডার সঙ্গে মনমালিণ্যের কারণেই আচমকা ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ধনখড়ের ইস্তফার সঙ্গে সঙ্গেই পরবর্তী উপরাষ্ট্রপতি বেছে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। আর ধনখড়ের ছেড়ে যাওয়া কুর্সিতে বসার ক্ষেত্রে তিনজনের নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে। ওই তিনজন হলেন বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের শেষের দিকে বিহারে বিধানসভার ভোট। যদিও এনডিএ’র হাল খুব একটা ভাল নয়। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তাঁকে সামনে রেখে ভোটে লড়তে রাজি নন বিহার বিজেপির সিংহভাগ নেতা। যদিও জেডিইউকে বাদ দিয়ে এককভাবে লড়াই করে বিহারে ক্ষমতা দখল করা বিজেপির পক্ষে যে সম্ভব নয়, তা ভালই জানেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা। তাই নীতীশকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বসিয়ে বিজেপির কাউকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসাবে তুলে ধরে ভোটে লড়ার কথা ভাবা হচ্ছে। নীতীশকে উপরাষ্ট্রপতি করার বিষয়টি ভোটের প্রচারে ব্যবহার করে বিহারিদের ভাবাবেগে সুড়সুড়িও দেওয়া যাবে।
তবে বিজেপি ও আরএসএস নেতৃত্বের একাংশ মনে করেন, কোনও শরিক দলের নেতা নয়, বরং সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ কাউকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বসানো হোক। প্রয়োজন হলে তাঁকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি করা যাবে। আর এ ক্ষেত্রে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি নীতীন গড়কড়ি, জেপি নাড্ডা ও জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার নাম নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিন জনেই সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ এবং সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের পছন্দের পাত্র হিসাবে পরিচিত। তবে নীতীন গড়কড়ি নিয়ে উপরাষ্ট্রপতি হতে খুব একটা আগ্রহী নন। ঘনিষ্ঠদের কাছে তিনি জানিয়েছেন, ‘আপাতত সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে চান না’।