অসুর ভ্রাতৃদ্বয় হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপুর জন্মবৃত্তান্ত শুনলে চমকে উঠবেন

Share:

পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কথায় বলে কৃতকর্মের ফল এই জন্মে না হলেও পরজন্মে ভোগ করতেই হবে। তাছাড়া সকল কর্মেরই সুফল ও কুফল বিদ্যমান। জানা যায়, সনাতন ধর্মের পুরাণসমূহে দেবতা, অসুর, ঋষি ও মানব সমাজের বহু জটিল ও গভীরতর কাহিনি স্থান পেয়েছে, যেগুলির মধ্য দিয়ে ধর্ম, আচরণ, কর্ম ও ফলের নিগূঢ় সত্য ফুটে ওঠে। কথিত আছে,  প্রজাপতি কশ্যপ ও দিতির পুত্র—অসুর ভ্রাতৃদ্বয় হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপুর জন্ম দিতির ভুল কর্মেরই ফল, আবার জানলে অবাক লাগবে, শ্রী হরির বৈকুন্ঠের দুই দ্বারপাল জয় ও বিজয়ই তাঁদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপই জন্মেছিলেন এই দুই ভয়ঙ্কর অসুর রূপে । অর্থাৎ, একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, একাধারে দিতি ও জয়-বিজয়ের কর্মফল স্বরূপ এই গোলকে নানা দুষ্কর্ম করতে জন্ম নিয়েছিল হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু, যাঁদের এই জন্ম মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি দিতে বিনাশ করেছিলেন স্বয়ং জগৎপালক।

কিংবদন্তি অনুসারে,  এক সন্ধ্যাকালে দিতি পুত্র কামনায় প্রবল ভাবে উন্মত্ত হয়ে মহামুনি মিরীচির পুত্র ও তাঁর স্বামী প্রজাপতি কশ্যপের নিকট রতিক্রিয়ার আবেদন করেছিলেন। কশ্যপ প্রথমে ধর্মসম্মত সময়ের অপেক্ষার পরামর্শ দিলেও, দিতির কামজ আগ্রহ উপেক্ষা করতে পারেননি তিনি। ফলে কশ্যপ মুনি তাতে সম্মত হন ও সান্ধ্যকালীন সঙ্গমে লিপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে দিতি উপলব্ধি করেন যে, তিনি এক গুরুতর ধর্মভঙ্গ করেছেন। সন্ধ্যাকালের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ায় কশ্যপ ক্রুদ্ধ হন এবং ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, দিতির গর্ভে জন্ম নেবে দুই অধর্ম-স্বরূপ পুত্র, যারা ত্রিলোকের ভারসাম্য নষ্ট করবে। তবে প্রজাপতি কশ্যপ আশ্বাস দেন, এই দুই অসুর বধ হবেন স্বয়ং ভগবান শ্রীহরির হাতে এবং তাঁদের পৌত্র হবেন শ্রীহরির পরম ভক্ত।

অতঃপর দিতি এক শতাব্দীব্যাপী গর্ভধারণ করেন। এই গর্ভে নিহিত তেজ এতই প্রবল ছিল যে সূর্য, চন্দ্র ও দেবতারা নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন, এবং  সেই সময় বিভিন্ন দিকগুলিও অন্ধকারে ঢেকে যায়। দেবতারা ব্যাকুল হয়ে শরণাপন্ন হন ব্রহ্মার। তখন ব্রহ্মা এক গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ করেন।

ব্রহ্মা জানান, দিতির গর্ভে প্রবেশ করেছে বৈকুণ্ঠধামে শ্রীবিষ্ণুর দুই প্রহরী—জয় ও বিজয়। জানা যায়, তাঁরা একদা ব্রহ্মজ্ঞ সনকাদি মুনিদের অসম্মান করেছিল, যার ফলে ঋষিগণ ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের অভিশাপ দেন: তারা অসুররূপে মর্ত্যে জন্ম নেবে। তাদের প্রথম জন্মই হবে দিতির গর্ভে দুই অসুর রূপে। এই দন্ডপ্রাপ্ত পার্ষদদ্বয় স্বয়ং শ্রীহরির সম্মতিতে মর্ত্যে নরক তুল্য যোনিতে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন। ভগবান তাদের আশ্বাস দেন, এই জন্মে পাপরূপে হলেও, শেষপর্যন্ত তারা শ্রীহরির কৃপাতেই মোক্ষলাভ করবে। এক শতাব্দীর শেষে দিতি যমজ পুত্র প্রসব করেন। তারা ভূমিতে পতিত হতেই স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতালে নানা অমঙ্গল সূচক চিহ্ন দেখা দেয়—ভূকম্প, অলৌকিক শব্দ, আগুনের জ্বলন্ত রাশ, কালো মেঘ ইত্যাদি। কশ্যপ তাদের নামকরণ করেন—জ্যেষ্ঠ পুত্র হিরণ্যকশিপু এবং কনিষ্ঠ হিরণ্যাক্ষ।

খুব শিগগিরই বড় হয়ে ওঠেন এই অসুর ভ্রাতৃদ্বয়। অমরত্ব লাভের অভিপ্রায়ে হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা শুরু করেন ও ব্রহ্মাকে সুপ্রসন্ন করে বর লাভ করেন। অতঃপর তিনি স্বর্গ দখল করে ইন্দ্র ও দেবতাদের বিতাড়িত করেন এবং তিনলোককে শাসন করতে শুরু করেন। এমনকী  দেবতা, ঋষি ও বৈদিক ধর্মের বিরোধী হয়ে ওঠেন। এ ছাড়া স্বয়ং শ্রীহরির নাম স্মরণেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

অন্যদিকে হিরণ্যাক্ষ তার অগ্রজের বিশ্বজয়ের সঙ্গী হয়ে ওঠেন। একদিন যুদ্ধের বাসনায় তিনি স্বর্গে উপস্থিত হন, কিন্তু দেবতারা সেখানে না থাকায় তিনি তখন সমুদ্রের মাঝে গিয়ে জলক্রীড়ায় মগ্ন হন এবং গভীর গর্জনে বিশ্বকে কম্পিত করেন। এরপর তিনি পাতাল ও জলের দেবতা বরুণকে তিনি উপহাস করে লজ্জা দেন ও যুদ্ধের আহ্বান জানান। বরুণ তখন নিজেকে অপর্যাপ্ত বলে জানিয়ে তাকে পরামর্শ দেন—যদি সত্যিই শৌর্য দেখাতে চাও, তবে যাও স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির সঙ্গে যুদ্ধ করো। তিনিই একমাত্র তোমার যুদ্ধতৃষ্ণা নিবারণ করতে সক্ষম। তবে, সেই অসুর ভ্রাতাদের অত্যাচার আর বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। হিরণ্যাক্ষকে শ্রী হরি স্বয়ং বরাহঅবতার রূপে ও মহাশক্তিশালী হিরণ্যকশিপুকে নৃসিংহ অবতার রূপে বধ করেছিলেন।

এই কাহিনি শুধুমাত্র অসুরের আবির্ভাব নয়, বরং এক গভীর ধর্মতত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে। কাম, ক্রোধ ও অহঙ্কার  থেকে যে কর্ম উৎপন্ন হয়, তার ফলস্বরূপ সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। অথচ সেই দুষ্কর্মও পরিণামে পরিশুদ্ধ হতে পারে ঈশ্বরের ইচ্ছায়। হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপু যেমন অধর্মের প্রতীক, তেমনই তাদের বধ শ্রীহরির লীলা ও বিশ্বরক্ষার অঙ্গ। পুরাণ এইভাবে আমাদের শিক্ষা দেয় যে, প্রতিটি কর্মের ফল আছে, এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই চূড়ান্ত নয়।

জানেন কী, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে একমাত্র এই কৌরব যুদ্ধ করেছিলেন পাণ্ডবদের হয়ে?

জানেন, কেন লক্ষ্মীদেবী সবসময় ভগবান নারায়ণের পায়ের কাছে বসেন?

কেন গাড়ির চাকাতে প্রস্রাব করে কুকুর ? জানুন অজানা কারণ

ভগবান কৃষ্ণের বিরহে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল শ্রীরাধার ?

হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রের ৬৪ যোগিনী সম্পর্কে জেনে নিন অজানা তথ্য

জানেন কী, কলিযুগে অধর্মের উত্থান বার্তা পূর্বেই দেওয়া হয়েছিল ভবিষ্য় পুরাণে?

সন্তান লাভে সমস্যা? মোক্ষম ফল পেতে পুজো দিয়ে আসুন নেপালের এই প্রাচীন মন্দিরে

জেনে নিন জগন্নাথের অধরপনার ঐতিহ্যবাহী মাহাত্ম্য

লড়াই করেও গুজরাতের কাছে হেরে গেল কেকেআর

‘দিল্লি থেকে এল গাই, সাথে এল মোটা ভাই’, শাহ-এজেন্সিকে কটাক্ষ মমতার

‘‌আমি আইনি পদক্ষেপ করব’‌, এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সুর সপ্তমে মমতার

হেশতলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ছিন্নভিন্ন মহিলার দেহ, গুরুতর আহত স্বামী

আফগানিস্তানে তীব্র ভূমিকম্প! হু হু করে মৃত্যু বেড়ে ২৫০, আহত ৫০০

সংগঠনে নজর দিতে আরামবাগ ও ঘাটালের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের

পাকিস্তানেই তৈরি হয় সন্ত্রাসবাদের ভিত্তি, চিনে নাম না করেই শাহবাজকে বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

[hls_player autoplay="1" fullscreen="1" unmute="0"]