আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পালাবদলের পরেই কাবুলিওয়ার দেশ আফগানিস্তানে নারীদের বিরুদ্ধে চলছে চরম নির্যাতন। তাদের মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে তালিবান নেতারা। এবার নারী নির্যাতনের অভিযোগে তালিবানদের দুই শীর্ষ নেতা বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা তালিবানদের সুপ্রিমো হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং প্রধান বিচারপতি আব্দুল হাকিম হাক্কানি। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানাকে গুরুত্বই দিতে চাননি তালিবানরা। তাদের বক্তব্য, আইসিসিকে স্বীকারই করে না আফগানিস্তান। ফলে তাদের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারিতে কিছু যায় আসে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করার পরেই সশস্ত্র বিপ্লব ঘটিয়ে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে কাবুলিওয়ালার দেশে ক্ষমতা দখল করেছে তালিবানরা। আর ক্ষমতা দখলের পরেই মেযেদের উপরে নির্যাতনের খড়গ নামিয়ে এনেছে। ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্র থেকে মহিলাদের বিতাড়িত করা হয়েছে। মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কোনও পুরুষ অভিভাবক ছাড়া মেয়েরা রাস্তায় বের হতে পারবে না বলে ফরমান জারি করেছে। সেই সঙ্গে সঙ্গীতচর্চাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালিবানি ফতোয়া নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসলেও গর্দান যাওয়ার ভয়ে টুঁ শব্দটি করতে পারছে না কাবুলিওয়ালার দেশের মেয়েরা।রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফেও তালিবানিদের এমন ফতোয়াকে ‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ’ বলে আখ্যা দিয়েছে।তবে কোনও সমালোচনাকেই পাত্তা দিচ্ছে না তালিবানিরা। বরং গলার শিরা ফুলিয়ে কট্টর মৌলবাদী সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা আফগান সংস্কৃতি এবং ইসলামী আইনের ব্যাখ্যা অনুসারে নারীর অধিকারকে সম্মান করে।
আফগানিস্তানে মেয়েদের দুরবস্থা নিয়ে নালিশ জমা পড়েছিল হেগে আবস্তিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে। ওই মামলার শুনানিতেই তালিবানি শীর্ষ নেতা আখুন্দজাদা ও প্রধান বিচারপতি হাক্কানির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক আপরাধ আদালত। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তালিবানদের সর্বোচ্চ কমান্ডার হন আখুন্দজাদা। ২০২১ সালের অগস্টে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তথাকথিত ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তানের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর প্রধান বিচারপতি হাক্কানি তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।