আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফিলিপাইনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দুতার্তের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি।এবার দেশটির পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল ফিলিপাইনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।মঙ্গলবার(১১ মার্চ)দেশটির রাজধানী ম্যানিলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপরই মঙ্গলবার তিনি ম্যানিলা বিমানবন্দরে পৌঁছালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। সেইসময় রদ্রিগো দুতার্তে হংকং থেকে নিজের দেশে ফিরছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই নিয়ে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, দুর্তাতে ক্ষমতায় থাকাকালীন অবৈধভাবে দেশে গণহত্যা চালায়। আদালত সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। আদালত এই বিষয়ে তদন্ত করে দেখবে।ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুতার্তে যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন নৃশংস মাদক বিরোধী অভিযান চালানোর নামে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালে তার শাসনামলে হাজার হাজার লোক নিহত হয়।
এর আগে ৭৯ বছর বয়সী দুতার্তে জানিয়েছিলেন, তিনি জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে দুতার্তের প্রাক্তন মুখপাত্র সালভাদোর প্যানেলো এই গ্রেফতারির নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে বেআইনি হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রন্দ্রিগো দুর্তাতে রোম সংবিধি থেকে ফিলিপাইনকে প্রত্যাহার করে নেয়। ওই সময়ে মানবাধিকার কর্মীরা এই কাজের বিরোধীতা করেন। এছাড়া ২০২১ সালে দুতার্তের প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করার উদ্যোগ নেন। তখন তাঁরা রন্দ্রিগো দুর্তাতের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন, ফিলিপাইনের আদালতই এই বিষয়ে তদন্ত করছে। তখন তিনি আরও বলেছিলেন, আইসিসি হলো শেষ আশ্রয়স্থল, তাই এই বিষয়ে তদন্ত করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাজ নয়।