নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: কুমিল্লার মুরাদনগরে হিন্দু তরুণীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত ফজর আলীকে ঢাকায় নিরাপদ আস্তানায় লুকিয়েছিলেন বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা তথা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। রাজধানী সায়েদাবাদের একটি হাসপাতালে ধর্ষক ফজর আলীকে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিক্ষোভে দেশ উত্তাল হওয়ায় চাপ বাড়ে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের। গোয়েন্দাদের দুটি দল বিএনপি শীর্ষ নেতা তথা মুরাদনগরের প্রাক্তন সাংসদ কায়কোবাদের মোবাইল ফোনে নজরদারি চালায়। ওই নজরদারিতে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, ধর্ষক ফজর আলী সায়েদাবাদের হাসপাতালে ভর্তি। সময় নষ্ট না করে ওই হাসপাতালে জড়ো হন গোয়েন্দারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেন, ফজর তাদের ওখানে ভর্তি রয়েছেন। এর পরেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা।
ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে হিন্দু তরুণীকে ধর্ষণের পরেই মুরাদনগর বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত ফজর। তিনিই যোগা্যোগ করেন প্রাক্তন সাংসদ তথা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সঙ্গে। এর পরেই ফজরকে তড়িঘড়ি ঢাকায় চলে আসার নির্দেশ দেন কায়কোবাদ। তাকে ভর্তি করান সায়েদাবাদের হাসপাতালে। শুধু তাই নয়, পুলিশ যাতে সন্ধান না পায় তার জন্য অভিযুক্ত ধর্ষককে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। গোয়েন্দা পুলিশের তরফে ফজরের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মোবাইল বন্ধ থাকায় লোকেশন ট্র্যাক করা যায়নি। এর পরেই স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, মুরাদনগরের প্রাক্তন সাংসদ কায়কোবাদের সহযোগিতায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে অভিযুক্ত ধর্ষক। ওই খবরের সূত্র ধরে কায়কোবাদের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করা হয়। আর তাতেই অভিযুক্ত ফজরের ডেরার সন্ধান পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মুরাদনগরে ২১ বছরের এক হিন্দু তরুণীকে জোর করে ধর্ষণ করে ফজর আলী নামে বিএনপির এক দাপুটে নেতা। নির্যাতিতার চিৎকার শুনে আশেপাশের বাড়ি থেকে লোকজন ছুটে আসে। উদ্ধারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় হিন্দু মহিলার ভিডিও তোলার পাশাপাশি তাঁকে দুশ্চরিত্রা আখ্যা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। বিবস্ত্র অবস্থায় থাকা মহিলার ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঝড়ের গতিতে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। নিন্দার ঝড় ওঠে গোটা দেশজুড়ে। সমাজমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ‘এর জন্যই কি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল?’
গত শুক্রবার নির্যাতিতা মহিলা মুরাদনগর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশের ঘুম ভাঙেনি। ধর্ষক ও নির্যাতিতা মহিলার বিবস্ত্র ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পাণ্ডারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দলের নেতা-কর্মী হওয়ায় গ্রেফতারের হিম্মৎ দেখায়নি পুলিশ। কিন্তু সমাজমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠতেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিক্ষোভ প্রশমিত করার নির্দেশ দেওয়া