নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগদা: প্রায় ১৬ বছরের সম্পর্ক। আচমকাই ছন্দপতন। প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে নেমে নিতে পারেনি প্রেমিক। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যা করলেন যুবক। প্রতিবাদে যুবকের মৃতদেহ নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে সামনে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানার মনোহরপুরের বাসিন্দা বছর তিরিশের চিরঞ্জিত বৈরাগী। তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল সরস্বতী দাস। জানা গিয়েছে পুলিশে কর্মরত তিনি। ১৬ বছর ধরে দুজনের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিল। বার বার বিয়ের কথা বললেও সরস্বতী বিয়েতে রাজি হননি। উল্টে চিরঞ্জিতের একাধিকবার বিয়ে ঠিক হলেও তাতে বাধ সেধেছিলেন সরস্বতী। চিরঞ্জিতকে বিয়ে করতে দেননি। সম্প্রতি সরস্বতী দাসের বিয়ে ঠিক হয় বনগাঁয়। গত বৃহস্পতিবার তাঁর আশীর্বাদও হয়। এই বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি চিরঞ্জিত। কর্মসূত্রে বাইরে ছিলেন। শনিবার বাড়িতে ফিরেছিলেন। রবিবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন।
এই ঘটনার পরেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মৃতদেহ নিয়ে প্রেমিকার বাড়িতে চড়াও হয়। সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বাগদা থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভ থামিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মৃত যুবকের পরিবার ও প্রতিবেশীরা প্রেমিকরার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।
মৃতের মা পূর্ণিমা বৈরাগী জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সরস্বতীর সঙ্গে ছেলের প্রেম ছিল। চিরঞ্জিতের একাধিকবার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু বিয়ে করতে দেয়নি সরস্বতী। মায়ের একমাত্র সম্বল ছিল এই ছেলে। ছেলের মৃত্যুতে প্রেমিকার চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মা। অন্যদিকে, সরস্বতীর পরিবার দাবি করেছেন, অনেক বছর আগে মেয়ের সঙ্গে চিরঞ্জিতের সম্পর্ক ছিল। এখন আর নেই।