নিজস্ব প্রতিনিধি, লখনউ: স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত, তাই প্রেমিকের সঙ্গেই স্ত্রীর বিয়ে দিলেন স্বামী। বিয়ে দেওয়ার আগে পরিষ্কার জলে ধুয়ে মুছে দিলেন স্ত্রীর সিঁথির সিঁদুর। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলায়। মন্দিরে এই বিয়ের অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে এসেছিলেন অসংখ্য গ্রামবাসী।
ঘটনাটি ঘটেছে গোন্ডার খোদারে থানার অন্তর্গত গ্রান্ট গ্রামের। এখানেই স্ত্রী করিশ্মার সঙ্গে বাস হরিশচন্দ্রের। বিগত কয়েক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা শিবরাজ চৌহানের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন করিশ্মা। কানাঘুঁষোয় প্রথমে এই কথা কানে আসলেও পরের দিকে সত্যতার প্রমাণ পান হরিশচন্দ্র। বৃহস্পতিবার শিবরাজ ও করিশ্মাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি। এরপর পঞ্চায়েত ডাকা হয়।
পঞ্চায়েতেই হরিশচন্দ্র সিদ্ধান্ত নেন যে স্ত্রী করিশ্মার সঙ্গে প্রেমিক শিবরাজের বিয়ে দেবেন। গ্রামবাসী ও মন্দিরের পুরোহিতের উপস্থিতিতে প্রথমে জলে ধুয়ে করিশ্মার সিঁথির সিঁদুর তুলে দেন হরিশচন্দ্র। তারপর ফাঁকা সিঁথি নতুন করে সিঁদুর দিয়ে পূর্ণ করতে বলেন শিবরাজকে। এরপর শিবরাজ ও করিশ্মা মালাবদল, সিঁদুরদান করে বিয়ে করেন।
করিশ্মার দাবি এই সব কিছু জোর করে করিয়েছেন হরিশচন্দ্র। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার প্রতিশোধেই দেওয়া হয় শিবরাজের সঙ্গে বিয়ে। করিশ্মা জানিয়েছেন, শিবরাজের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্কই নেই। যদিও হরিশচন্দ্রের দাবি করিশ্মা শিবরাজের সঙ্গেই থাকতেন। পথের কাঁটা সরাতে বিষ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার চেষ্টাও করেছিলেন। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামী পুত্রদের ঘুম পাড়িয়ে রেখে শিবরাজের কাছে যেতেন। তাই স্বেচ্ছায় স্ত্রীকে ত্যাগ করেছেন হরিশচন্দ্র। তাঁর দাবি, শুধু সন্তানেরা যেন বাবার কাছেই থাকতে পারে। স্থানীয় থানার কাছে হরিশচন্দ্রের এইটুকুই আবেদন।
হরিশচন্দ্র ও করিশ্মার ১৪ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের ১১ বছরের এক পুত্র এবং ৯ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে শিবরাজের স্ত্রী করিশ্মা। শিবরাজ নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি আর করিশ্মা একে অপরের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন।